পোখারার পথে

কাঠমান্ডুতে আজ ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। দেশের বাইরে বেড়াতে এসে বৃষ্টি বাদলা ভালো লাগার কথা নয়। কিন্তু আমাদের খুব খারাপ লাগে না। আমরা কাচ ঘেরা গাড়ির ভেতরে। গাড়িটি শীত-তাপ নিয়ন্ত্রিত। বন্ধ কাচের জানালার ভেতর দিয়ে আমরা কাঠমান্ডুর বৃষ্টি দেখি আর অতি অবিন্যস্ত, ভাঙাচোরা শহরতলির ভেতর দিয়ে পার হতে থাকি। বাংলাদেশ থেকে আসা গোটা তিরিশেক স্থপতিদের বয়ে নিয়ে যাচ্ছে একটা ট্যুরিস্ট বাস। তাদের গন্তব্য কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দু-শ কিলোমিটার দূরের আরেক শহর, নাম পোখারা। পোখারা যাব পর্বত দেখতে। হিমালয়ের অন্নপূর্ণা রেঞ্জের পাহাড়সারি ওদিকে। খুব কাছে থেকে সেগুলো দেখার জন্য ওটাই নাকি সবচেয়ে আমোদের জায়গা। এই বহরে শতভাগ স্থপতি নেই। বার্জারের তারেক তার স্ত্রী শিফাকে নিয়ে সঙ্গী হয়েছে দলের। স্থপতিদের সঙ্গে কাজ করতে করতে সেও অনেকের বন্ধু। আরেকজন আছেন তাহেরা জাবিন, তিনি স্থপতি সুতপার বন্ধু। দলের মধ্যে স্ত্রী নিয়ে আছেন ৪-৫ জন স্থপতি, দিলু ভাইও সস্ত্রীক, তাঁর বউ স্থপতি নন। হ্যাপি এসেছে তার প্রকৌশলী স্বামী রবিউল্লাহকে নিয়ে। স্থপতি সাব্বির আরেফিন (রাসু) আছে তার ব্যারিস্টার স্ত্রী মোনা, তিন বছর বয়েসি কন্যা সাবিহাকে নিয়ে। সাবিহা আমাদের দলের কনিষ্ঠতম সদস্য এবং হাততালি দেওয়ার কাজে সে সবার আগে তার অবস্থান প্রকাশ করে। এই নিয়ে মোটামুটি একটা মিশ্র স্থপতির দল। যাত্রা শুরু হয়েছিল ৩ অক্টোবর ২০১৩, ঢাকা থেকে। রাতে কাঠমান্ডুর এক হোটেলে ঘুমিয়ে সকাল দশটায় আমরা রওয়ানা দিয়েছিলাম পোখাবার পথে। এবারের এই সফরের উপলক্ষ একটা আন্তর্জাতিক (এশিয়া ভিত্তিক) স্থাপত্য সম্মেলন। ৮ অক্টোবর, ২০১৩-তে কাঠমান্ডুর এক পাঁচতারা হোটেলে বসবে এই সম্মেলন। কিন্তু উপলক্ষ প্রায়ই আসল বস্তুকে অতিক্রম করে যায়। আমাদেরও করেছে। ৪ দিন আগে আমরা এসে পড়েছি নেপালে। পোখারা দেখা শেষ হলে স্থাপত্যের বিষয়টা মাথায় নেয়া যাবে। এখন আমাদের মাথায় শুধু অন্নপূর্ণাই। আমাদের বয়ে নিয়ে চলা বড় ট্যুরিস্ট বাসটি যত দ্রুত কাঠমান্ডু ছাড়ল, ততই দেখি প্রশান্তি আমাদের সহপর্যটকদের মধ্যে। আধঘণ্টার মধ্যেই আমাদের সামনে ফুটে উঠল আকাশকে পেছনে রেখে কালচে সবুজ রংয়ের পাহাড়ি দিগন্তরেখা এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা টের পেলাম যে বেশ উঁচু একটা লোকালয়ের ভেতর আমরা ঢুকে পড়েছি। প্রায় পুরো নেপালই পাহাড়-পর্বতে ঘেরা। কাঠমান্ডু উপত্যকার যে অঞ্চল থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল সেটি ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪২০০ ফুট উঁচুতে। সেখান থেকে যে পথের দিকে যাচ্ছি, সেটা কখনো নিচু, কখনো আরও উঁচু, কখনো ওটার সমান। কাঠমান্ডুর পশ্চিম দিকে যে হাইওয়ে দিয়ে আমাদের গাড়ি যাচ্ছে, তার নাম—‘ত্রিভুবন রাজপথ’। নেপালি ভাষার সঙ্গে বাংলার অনেক মিল। ‘ত্রিভুবন’ মানে কিন্তু স্বর্গ-মর্ত-পাতাল নয়। এটা নেপালের এক রাজার নাম। তার নামে নেপালের কাঠমান্ডুতে প্রধান বিমানবন্দরটিও। রাজা-বাদশাহদের নামে বিমানবন্দর হবে, রাজপথ হবে—এটাই স্বাভাবিক। এই রাজা ত্রিভুবন বীরবিক্রম শাহ (১৯০৬-১৯৫৫)-কে বলা হয় আধুনিক নেপালের জাতির পিতা। মাত্র ৫ বছর বয়সে তাঁকে সিংহাসনে আরোহন করতে হয়। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত নির্বিঘ্নে তিনি দেশ শাসন করেছিলেন। জীবনের শেষ ৫টি বছর তাঁকে নির্বাসনে কাটাতে হয়। মারা যান সুইজারল্যান্ডে। মৃত্যুর পর তিনি আবার মহান হয়ে ওঠেন। কাঠমান্ডুর বিমানবন্দরটি যে বছর (১৯৫০ সালে) বানানো হয়, সে বছরই তাকে নির্বাসনে যেতে হয়। সে কারণে বিমানবন্দরটি নামকরণ হয়েছিল ‘গৌচর বিমান বন্দর’—এলাকাটার নামে। মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র রাজা মহেন্দ্র যখন ক্ষমতায় এলেন তখন আবার বাবার নাম জিইয়ে রাখার জন্য নাম দিলেন ‘ত্রিভুবন বিমানবন্দর’। সেই থেকে এখনো আছে। আরো অনেক রাজা ক্ষমতায় এসেছেন, এই বিমানবন্দরের নাম আর পরিবর্তিত হয়নি। নামের সঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে মাত্র। আর এখন আমরা যে হাইওয়ে দিয়ে ছুটে যাচ্ছি, তার নামও হয়েছে সেই ত্রিভুবন রাজার নামে। মৃত্যুর পরের বছর ১৯৫৬ সালে এই হাইওয়েটি নির্মাণ করা হয়েছিল ভারতের সহায়তায়। এটাই নেপালের প্রাচীনতম হাইওয়ে। ঘণ্টাদুয়েক পর আমরা একটা ত্রিমোহনায় এসে পৌঁছাই। এখান থেকে নতুন হাইওয়ে ধরে আমাদের যাত্রা হবে পোখারামুখী। এই রাজপথের নাম ‘পৃথিবী রাজমর্গ’। এর ইংরেজি করলে কী হবে? ওয়ার্ল্ড হাইওয়ে অবশ্যই না। এই ‘পৃথিবী’-দুনিয়া নয়। এই ‘পৃথিবী’ও রাজা। তিনি ‘শাহ’ ডাইনেস্টির প্রথম রাজা পৃথিবী নারায়ন শাহ। পৃথিবী নারায়ন শাহ জন্মেছিলেন ১৭২৩ সালে। ক্ষমতা গ্রহণ করেন ১৭৬৮ সালে। নেপালকে একীভূত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। মহাসড়কটি বানানোর কাজে সাহায্য করেছিল চীনা সরকার। চীন আর ভারত, এ দুয়েরই দয়াপুষ্ট এই জাতি। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যে রাজার আমলে এই সড়কের নামকরণ হয়, তাঁর দাদার নামের সঙ্গেও ‘পৃথিবী’ ছিল—পৃথিবী বীরবিক্রম সাহা। এখন এই ‘পৃথিবী রাজপথ’ দিয়ে কি একশ বছর ব্যবধানের দুই রাজাকেই একসঙ্গে বোঝাচ্ছেন, কে জানে? বৃষ্টি থেমে গেছে অনেক আগেই। এদিকেও সম্ভবত হয়েছিল খানিকটা। সেকারণে গাছপালার পাতাগুলোকে বড় তরতাজা দেখাচ্ছে। আমাদের গাড়িটির যদি কোনো স্যাটেলাইট মুভি ইমেজ তোলা যেত, মনে হতো একটা বিশালাকার সাপ যেন পাহাড়গুলোর তলা বেয়ে বেয়ে এঁকে বেঁকে ছুটছে। নেপালের এই সড়কপথগুলো ৫০-৬০ বছর আগের বানানো; এই সময়ের নয়। সে কারণে অবস্থা খুবই নাজুক। তবে বুদ্ধি করে রাস্তার দু-পাশে ড্রেন দিয়েছে, যাতে বৃষ্টির পানি রাস্তায় উঠে প্রমাদ না ঘটায়। নেপালে দারিদ্র্য আছে। সেকারণে পাহাড়গুলোকে শাসন করে সরল সোজা পথ বানানোর কারিগরি কসরত তারা করতে পারেনি, যেমন করেছে তার প্রতিবেশী দেশ চীন। চীন তরতর করে বেড়ে উঠেছে, ফুলে ফেঁপে উঠেছে। সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মধ্যে থেকেও একধরনের ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে বলেই হয়তো এই পাহাড়ি পথের সাথে ওই পারের বড়োই ফারাক। নেপালের ওই পারেই চীনের ইউন্নান রাজ্য। সেখানে সড়কগুলো চলে গেছে সোজা। পাহাড়ের তলা বরাবর ঘুরে ঘুরে রাস্তা হয়নি। রাস্তা চলে গেছে পাহাড়ের ভূঁড়ি ভেদ করে। পাহাড় পড়ে আছে পাহাড়ের জায়গায়, রাস্তা চলে গেছে রাস্তার মতো। পাহাড়ের জন্য রাস্তাকে বাঁক নিতে হয়নি। কিন্তু এখানে তা নেই। আর সেকারণেই হয়তো ৪-৫ হাজার ফুট উচ্চতার এই সড়কপথগুলোতে দিনের বেলার যাত্রাপথ অতীব রোমাঞ্চকর। এরমধ্যে শুনি গান-বাজনা শুরু হয়ে গেছে গাড়ির ভেতর। গাড়ির মূল অংশে একটা টেলিভিশন লাগানো আছে, আছে একটা মাইকও। হঠাত্ করে মনে হলো, কেউ একজন মাইকে মুখ লাগিয়ে গান গাইছে এবং বাসের বাকি যাত্রীরা তার সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে। গানের কথা ও সুর আমার পূর্বপরিচিত—‘লাল পাহাড়ের দেশে যা, রাঙামাটির দেশে যা... এথাক তোকে মানাইছে না রে, এক্কেবারে মানাইছে না রে...’। মাঝপথে একবার আমাদের গাড়ি থামল ঘণ্টাখানেকের জন্য। এটি একটি ‘কালচার ভিলেজ রেস্টুরেন্ট’। নিচে জায়গাটির অবস্থান লেখা আছে—গানসিকুয়া, ৫ গল্লা, তানাহুন, নেপাল। দুই পাহাড়ের মাঝখানে বয়ে যাওয়া এক খরস্রোতা ছোট্ট নদীর পারের এই রেস্টুরেন্টে খাবার ব্যবস্থা আছে। আড়াইশ আর তিনশ নেপালি রুপিতে ‘থালি’ নেওয়া যায়। ভেজদের জন্য আড়াইশ, যারা এর সঙ্গে মুরগি নেবেন তারা তিনশ দেবেন। এই নেপালি খাবার আমাদের টানে না। আমার সঙ্গে বসেছেন নাসির ভাই। তিনি মাংসটি মুখে দিয়ে বললেন—বন মোরগ রেঁধেছে শুনেছি, কিন্তু মুরগির হাড্ডি গরুর হাড্ডির চেয়েও যে শক্ত হতে পারে, আমার ধারণা ছিল না। খাবার স্বাদ আমাদের আনন্দ দেয়নি, কিন্তু যেখানে বসে এ খাওয়ার আয়োজন ছিল, ওখান থেকে কেউ উঠতে চায় না। পাহাড়ের তলা বরাবর ঘোলা নদীর জল কিলবিলিয়ে একটি আরেকটির ওপর পড়ছে, আর পেছনে ঝিকমিক করা সবুজ পাহাড়। পাহাড়গুলো আপন নিয়মেই কিছু প্রকৃতির অবয়বকে ধারণ করে। দূরের পাহাড়ের ওপর গাছপালার অবিন্যস্ত বিন্যাস দেখে আমার মনে হয়েছে, মানুষ এসবের আকার নিয়ে আছে। পাহাড়কে দেখে মানুষেরা যদি ছবি আঁকতে পারে, তুলতে পারে, তবে পাহাড়েরা মানুষকে দেখে কেনইবা তাদের রূপ নেবে না? পাহাড়েরও তো মানুষ হতে ইচ্ছে হতে পারে, নাকি, না? দেশের বাইরে গেলে সবসময়ই বিদেশের সঙ্গে নিজের দেশের তুলনা করতে ইচ্ছে করে। আমি আর নাসির ভাই বসেছি এক টেবিলে, খেতে খেতে আমাদের একই আলাপ। আমরা আবিষ্কার করি যে, এই পুরো নেপালটাই হচ্ছে আমাদের পার্বত্য অঞ্চলের একটা এলিভেটেড, এনলার্জড ভার্সন। ভূমিরূপ, সংস্কৃতি খুবই কাছাকাছি। সমুদ্র আমাদের কাছে বলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আমাদের পাহাড়ি অঞ্চল অতটা ওপরে নয়। এই যা। বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের আয়তনের মিল সবচেয়ে বেশি। আমাদের আয়তন ৫৫,৫৯৯ বর্গমাইল, নেপালের এরচেয়ে মাত্র এক হাজার বর্গমাইল বেশি। আকৃতি আলাদা। আমাদের মানচিত্রটি বড়ই চমত্কার, কোনো বিশেষ জ্যামিতিক আকারের মধ্যে ফেলা যায় না। ওদের আকৃতিটা অনেকটা একটা ট্রাপিজিয়ামের মতো। তবে পাহাড়ি এলাকা বলে জনসংখ্যা ও ঘনত্ব আমাদের থেকে অনেক অনেক কম। নেপালে প্রতি বর্গমাইলে পাঁচশ জনের মতো থাকে, আমাদের মাশা-আল্লাহ এর চেয়ে ৫ গুণ বেশি। আমাদের মাথাপিছু বার্ষিক আয় নয়শ ডলারের মতো, নেপালের আরও কম। সে হিসাবে নেপাল আমাদের চেয়ে দরিদ্র দেশ। এজন্যই আমাদের ৮০ টাকা দিয়ে ওদের ওখানে ১০০ টাকা পাওয়া যায়। বিস্তীর্ণ পাহাড়শ্রেণীই এই দেশের প্রধান উপজীব্য। এই পাহাড় দেখার জন্য বিদেশ থেকে বছরে প্রায় ৫ লাখ পর্যটক আসে। সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে পর্বত দিয়ে পাঠিয়েছে। পৃথিবীর উচ্চতম ১০টি পর্বতচূড়ার মধ্যে ৮টিই তাদের সীমানায়। আমাদের আড্ডা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। আমাদের ট্যুর অপারেটর মনোধর তাড়া দিচ্ছে। সন্ধ্যার আগে আগে পোখারা পৌঁছাতে হলে এখনই উঠে যেতে হবে। একসময় আবার আমরা বাসে ওঠি। ২০০ কিলোমিটার পথও আমাদের শেষ হয়ে আসে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি বিপজ্জনক পথ ধরে এই গাড়িটি শেষ বিকেলের দিকে পোখারার কাছে এসে পড়লে হঠাত্ ড্রাইভারকে খুব খুশি খুশি দেখায়। তার পাশের আসনে বসেছি আমি আর তার কন্ডাক্টর। অনেক্ষণ রাস্তাঘাটের, পাহাড়ের ছবি তুলে ক্লান্ত। আমার ক্যামেরার দিকে ইশারা করে ড্রাইভার বলেন—ওই যে, একটু পরেই অন্নপূর্ণা দেখা যাবে, ক্যামেরা রেডি করেন। তখন চমত্কার বিকেল। সকালবেলা কাঠমান্ডু থেকে যখন রওয়ানা দিই, গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। এই অঞ্চলে বৃষ্টি নেই। ফকফকা রোদ। এই রোদের মধ্যে ঘন সবুজের আড়ালে দূরে নীল আকাশ আর সাদা মেঘের মধ্যে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা সাদা বরফের সারি দেখি। বুঝি, হিমালয়ভুক্ত অন্নপূর্ণার রেঞ্জের কিছু পাহাড়ই তা। পাহাড়ের ওপরের অংশগুলো সাদাই, অনেকটা ঘন সাদা মেঘের স্তূপের মতো। মেঘের সাথে তার তফাত্, মেঘ সরে যায়, সে স্থির থাকে। একসময় পোখারার লেক সাইড শহরতলি বাইদামের একটা হোটেলে আমাদের চেক ইন হয়। এই আট ঘণ্টার বাসযাত্রায় আমরা বেশ ক্লান্ত সবাই। রাতে নিজের মতো করে শহরতলি দেখা আর তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাওয়া। শোনা গেলো, কাল অন্নপূর্ণা দেখতে যেতে হবে এবং এই ক্ষণটি ঠিক করা হয়েছে—সূর্যোদয়ের সময়। শেষ রাতেই ঘুম থেকে উঠতে হবে। দেখি, কী আছে ওখানে।