কী পড়ছি কী করছি

বই আমার বিনোদন

ক্রিকেট আমার প্রিয় খেলা। একসময় প্রচুর ক্রিকেট খেলতাম। মনে পড়ে, যখন আমি সিক্সে কি সেভেনে পড়ি তখন (১৯৪৪ বা ১৯৪৫ সালে) খেলতে গিয়ে একটি পা ভেঙে যায়। সুস্থ হতে প্রায় একমাস সময় লাগে। সে-সময় বাসায় একা একা সময় কাটত না। সবাই যার যার কাজে চলে যেত। তাই বাবা বেশকিছু বই এনে দিয়েছিলেন। পড়তে থাকি। ভালো লাগে। কাটে সময়। বেশ ঘোর তৈরি হয়। বলা চলে বইয়ের প্রতি নেশা হয়ে যায়। খেলার আগ্রহ কমে যায়। সেই থেকে পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়া শুরু। আজও চলছে বই পড়া। বই আমার নিত্যসঙ্গী। এখন বই আমার বিনোদন। জীবনের ঘোর তৈরি হবার পর দৈনিক আজাদীর ঈদ, পূজা-সংখ্যার মুকুলের মাহফিল পড়তাম খুব। বাসায় আসত মোহাম্মদী। সংবাদের খেলাঘর পড়তাম এবং ওখানে লেখা পাঠাতাম। সে-সময় আমাদের বয়সী সকলে সেখানেই লেখা পাঠাত। স্কুল, কলেজ-পরবর্তী হল ম্যাগাজিনেও লেখা চাপা হয়েছে। একসময় বিখ্যাত ফরাসি লেখক মোফাসার-এর ‘ডায়মন্ড নেকলেস’ গল্পটি অনুবাদ করি মেট্রিক পরীক্ষার পর। সেটাই আমার জীবনের প্রথম অনুবাদ। ছাপা হয় মুকুলের মাহফিলে। আমার প্রিয় দুটি বই টলস্টয়ের ‘আনা কারানি না’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ । এই উপন্যাস দুটি অনেকবার পড়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছি। এখনো আবার পড়তে ইচ্ছে করে। কিন্তু সময়ের অভাবে পড়তে পারি না। কাজী আব্দুল ওয়াদুদ-এর ‘শাশ্বতবঙ্গ’ আবার পড়ছি। শাশ্বতবঙ্গ-এর পুনর্মুদ্রণ বের হচ্ছে, সেখানে ভূমিকা লিখতে বলা হয়েছে। এ জন্য তাঁর কিছু বই পড়াশোনা করছি। সংস্কৃতি এবং জাতীয়তাবাদ নিয়ে লিখিত বইগুলোই বর্তমানে আমার পড়াশোনার মূল বিষয়। লিখব জনগণের মুক্তি নিয়ে। ছাপা হচ্ছে আমার সম্পাদিত ‘নতুন দিগন্ত’ পত্রিকায়। ‘জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি’ শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে। ১৯০৬ সাল থেকে ১৯৪৭, ৭১ পর্যন্ত। এই সময়ে কীভাবে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন সাম্প্রদায়িকতার দিকে গেলো? তারপর জনগণের মুক্তি প্রশ্নটা কীভাবে অমিমাংসিত রইল। এখানে আসছে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, গান্ধি, নেতাজি সুবাস বসু এবং কীভাবে বঙ্গভঙ্গ হলো, পরে দেশ ভাগ হলো, স্বাধীনতা—এসব। বর্তমানে পড়াটাও এই কেন্দ্রিক। মোটকথা জাতীয়তাবাদ এবং জনগণের মুক্তি বিষয়ে লিখছি। রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কার নিয়ে একটি সম্প্রতি একটি লেখা লিখেছি। লিখেছি কাজী নজরুল ইসলাম নিয়ে, তাঁকে আমরা কোন পরিচয়ে জানব। আবার কারও অনুরোধে কোনো বইয়ের ভূমিকাও। গ্রন্থনা : ইমরান মাহফুজ