ভূঞাপুরে যমুনায় ভাঙ্গন শত শত লোক গৃহহীন

বর্ষা মৌসুম চলে গেছে অনেক আগেই। তবুও থেমে নেই যমুনার ভাঙন। বিলীন হচ্ছে একের পর এক বিস্তীর্ণ এলাকা। অসময়ে সর্বনাশা যমুনা হানা দিয়েছে ৪০ বছরের পুরনো জনপদ ভূঞাপুরের গাবসারা ইউনিয়নের জুংগীপুর, রুলীপাড়া, বেলটিয়া পাড়া, চানগঞ্জ ও রেহাই গাবসারা গ্রামে। মাসাধিককালব্যাপী ভাঙনে গৃহহীন হয়ে পড়েছে এসব গ্রামের তিনশতাধিক পরিবার। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার যমুনা ঘেরা গাবসারা ইউনিয়নের জুংগীপুর, রুলীপাড়া, বেলটিয়া পাড়া, রেহাই গাবসারা ও চানগঞ্জ গ্রামে ৪০ বছর আগে বসতি গড়ে উঠে। ভাঙনের হাত থেকে দীর্ঘ সময় নিরাপদ থাকায় ঐ ৫টি গ্রামে ৬/৭ হাজার পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। উর্বর পলি মাটিতে ফসল ফলিয়ে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে অনেকেই। বর্ষা চলে গেছে অনেক আগেই। অনেক স্থানেই যমুনা নদী শুকিয়ে গেছে। কিন্তু গত বর্ষায় নদীর গতি পরিবর্তন হওয়ায় অসময়ে সর্বনাশা যমুনা হানা দিয়েছে ৪০ বছরের পুরাতন জনপদটিতে। প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। বসতভিটা হারিয়ে পরিবারগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছে। রুলীপাড়া গ্রামের কাদের মন্ডল (৭০) দুঃখ করে বলেন, ৪০ বছর আগে বসতি শুরু করেছিলাম। ভেবেছিলাম এ গ্রামেই জীবনের শেষদিন নিঃশ্বাস ত্যাগ করবো। কিন্তু অসময়ে যমুনার ভাঙন আমাদের নিঃস্ব করে দিয়েছে। অথচ ভাঙন ঠেকানোর জন্য কেউ নেই। জুংগীপুর গ্রামের হাফিজ উদ্দিন আকন্দ (৭২) বলেন, সারাজীবন দেখেছি বর্ষা মৌসুমে যমুনায় ভাঙন দেখা দেয়। এবার শীতকাল চলে এলেও ভাঙন কিছুতেই থামছে না। গাবসারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকার উত্তরে নতুন করে চর জেগে উঠায় দীর্ঘদিনের পুরাতন গ্রামগুলোতে ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা হলে হাজার হাজার মানুষ নিঃস্ব হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেত। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জ্যোতিপ্রসাদ ঘোষ বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খুব শিগগিরই এলাকাটি পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’