খোলা আকাশের নিচে ক্লাস
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৩, ২১:১৯
রংপুর মহানগরীর আলহাজ্ব আজিজুর রহমান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় দীর্ঘ ৬ মাস ধরে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এর ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে অন্যদিকে কোমলমতি শিশুদের কষ্ট দিন দিন বেড়েই চলছে। বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান অনেক ভালো এবং প্রতি বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করে আসছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রংপুর মহানগরীর ৮ নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত তপোধন ইউনিয়নের দক্ষিণ কার্তিক গ্রামে ২০০১ সালে স্থাপিত হয় আলহাজ্ব আজিজুর রহমান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে ঐ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। গত বুধবার থেকে দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকলেও প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী খোলা আকাশের নিচে বসে শিক্ষা গ্রহণ করছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজিলা বেগম বলেন, বর্তমান সরকার দেশের রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সরকারি বিদ্যালয়ে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বছর ৯ জানুয়ারি বিদ্যালয়টি সরকারি হয়। কিন্তু সরকারি বিদ্যালয়ে পরিণত হওয়ার পরও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোন লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। আমি গত ৬ মাস যাবত্ অনেকবার জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে দেখা করেছি বিদ্যালয়টির অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যাপারে। কিন্তু প্রতিবারেই আমাকে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। কারণ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার একটাই উত্তর, বরাদ্দ না থাকায় এখন বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩শ’ শিক্ষার্থী এবং আমিসহ ৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছি।
আমরা শিক্ষকরা স্কুলে এসে যে অফিস রুমটাতে বসি সেটাও ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে আমাদের খোলা মাঠে বসে কিংবা দাঁড়িয়ে থেকে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, আমাদের ক্লাসরুম ভেঙ্গে পড়েছে তাই খোলা আকাশের নিচে বসে ক্লাস করি। তারা বলে, শীতে খোলা আকাশের নিচে বসে ক্লাস করতে আমাদের খুবই কষ্ট হবে। কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের এমন করুণ অবস্থার কারণে বাচ্চারা একেবারেই স্কুলে যেতে চায় না। কিন্তু স্কুলে যেতেই হবে তাছাড়া তো উপায় নেই। স্কুলের অবকাঠামোর এমন করুণ অবস্থার পরেও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সেদিকে খেয়াল নেই বলে তারা অভিযোগ করেন।