এনজিওর সন্দেহজনক লেনদেন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানোর নির্দেশ
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪৫
কোনো বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) বা অলাভজনক সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের (এনপিও) লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলে সঙ্গে-সঙ্গে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সকল সদস্য বা গ্রাহক, তাদের সঙ্গে লেনদেনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (এফআইইউ) এসব তথ্য চাইলে সঙ্গে তা সরবরাহ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান যথাসময়ে এসব তথ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে এফআইইউ।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের এফআইইউ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এবং সন্পাস বিরোধী আইন-২০০৯-এর আওতায় নীতিমালাটি জারি করা হয়েছে। এর আগে এ দু’টি আইনে এসব প্রতিষ্ঠানকে রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অবৈধ উপার্জন অথবা আয়ের উত্স গোপন করতে এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন করলে তা মানি লন্ডারিং হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই স্থানীয় উত্স, বৈদেশিক সাহায্য, অনুদান বা ঋণ নিয়ে পরিচালিত সকল এনজিও এবং এনপিওর সব ধরনের লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া এধরনের প্রতিষ্ঠানের সকল সদস্য বা গ্রাহকের বিস্তারিত পরিচিতি (কেওয়াইসি) সংরক্ষণে রাখতে হবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসে অর্থায়ন বা অন্য যে কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন করলে অথবা কোনো লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলে তাত্ক্ষণিকভাবে তা জানাতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য যদি এফআইইউ থেকে চাওয়া হয় তাও যথা সময়ে সরবরাহ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান যথাসময়ে তথ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।