দক্ষিণ আফ্রিকায় আমরা শচিনকে মিস করবো : ক্যালিস

ব্যক্তিগতভাবে দু’জনে খুব ভাল বন্ধু। তবে গত এক দশকেরও বেশি ধরে ক্রিকেটে শচিন টেন্ডুলকারের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস। টেস্ট ক্রিকেটে শচিনের ৫১ থেকে সাত সেঞ্চুরি পিছিয়ে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকান এই অলরাউন্ডার। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের আগে ক্যালিস টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন আসন্ন প্রতিপক্ষ এবং লিটল মাস্টারের অবসর সম্পর্কিত নানা বিষয়ে। সেখানে উঠে এসেছে ৩৮ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনাও। * অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে শচিন টেন্ডুলকারকে দেখেছেন আপনি। একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে দেখার অনুভূতিকে কিভাবে বর্ণনা করবেন? ক্যালিস : ক্রিকেটে অনেক দীর্ঘ ও সফল একটি ইনিংস ছিল শচিনের। তবে আমি মনে করি, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা খেলারই একটা অংশ। আমরা তাকে অনেক বেশি মিস করবো। সত্যি কথা বলতে কি নিজ মাঠে শচিন বিহীন ভারতের বিরুদ্ধে খেলার কথাটা কিছুটা অকল্পনীয়ই বটে। * তবে তারপরও ধোনির দল গত কয়েক মাস যাবত্ অসাধারণ খেলে আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় শচিনের না থাকাটা ভারতীয় দলে কোন প্রভাব ফেলবে কিনা? ক্যালিস : হ্যাঁ সেটা সত্যি। অনেক কিছুর মধ্যে একটি হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকান কন্ডিশনে খেলার জন্য শচিন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। তার অবর্তমানে ভারতীয় দল নিশ্চিত সেটা মিস করবে। * দক্ষিণ আফ্রিকাতেও শচিনের অগণিত ভক্ত রয়েছেন। এবার এ কারণে সিরিজে কিছুটা হলেও সৌন্দর্য হারাবে বলে আপনি মনে করেন কিনা? ক্যালিস : আমি নিশ্চিত যে কোন ব্যক্তির চেয়ে সব সময় খেলা বড় বলা প্রথম খেলোয়াড় হবেন শচিন। নতুন প্রজন্মকে নিয়ে ক্রিকেটের সৌন্দর্য অব্যাহত থাকবে বলে আমি নিশ্চিত। * আসন্ন সিরিজ সম্পর্কে আপনার অনুমান? ক্যালিস : আমি নিশ্চিত যে, ভাল দু’টি দলের মধ্যে দারুণ একটা সিরিজ হবে। ভারত সর্বশেষ ২০১০ সালে এখানে সিরিজ খেলেছে এবং আমি আবারও এ সিরিজের অপেক্ষায় আছি। তীব্র লড়াইয়ের একটা সিরিজ হবে আমি এতোটুকু নিশ্চিত করতে পারি। * আপনার সমসাময়িক অধিকাংশই অবসর নিয়ে ফেলেছেন। আপনিও কি অবসরের কথা চিন্তা করছেন? ক্যালিস : না। যতোদিন আমি খেলাটা উপভোগ করবো এবং যতোদিন দলের জয়ে সাহায্য করতে পারবো আমি খেলা চালিয়ে যাবো। * টেন্ডুলকারের ৫১ টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে আপনি সাতটি পিছিয়ে আছেন। আগামী মাসে ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজে বিষয়টি আপনার মনে জাগবে কিনা? ক্যালিস : এটা আমার মনে কাজ করে না এবং আপনাদেরকে বলছি অবশ্যই এমন ধরনের কিছু আমাকে তাড়িত করে না। * কিছুদিন যাবত্ দুর্বল ফর্মের কারণে শচিন সমালোচিত হচ্ছিলেন এবং আপনিও খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আপনার ‘পিকি পলিসির’ সমালোচনা করেছেন হার্শেল গিবস। আপনি কি মনে করেন সুপারস্টারদের আরও বেশি সম্মান দেয়া উচিত ? ক্যালিস : আমি জানি, কোন ক্রিকেটারই সারা জীবন খেলতে পারে না এবং একটা সময় আসে যখন তাকে অবসর নিতে হয়। আশা করি আমি এ পর্যন্ত ভালভাবেই খেলে আসছি এবং আমার জীবনকে যেভাবে পরিচালনা করে আসছি তাতে সে সম্মানটুকু আমার প্রাপ্য। মি. গিবসের ‘পিকি পলিসি’ নিয়ে বলছেন আমি দক্ষিণ আফ্রিকা দলের কোচ রাসেল ডোমিঙ্কো এবং প্রোটিয়াস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সঙ্গে আমার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছি। আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার একটা সূচির বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। হতে পারে অন্য কারো ক্যারিয়ার সম্পর্কে কিছু না জেনে নাক গলানোর চেয়ে মি. গিবস তার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কিছুটা শংকিত। * একজন বন্ধু হিসেবে অবসরের পাঁচ বছর পর শচিনকে আপনি কোথায় দেখতে চাইবেন? ক্যালিস : আমি আশা করছি শচিন তার পরিবারের সঙ্গে অনেক বছর আনন্দে কাটাবে এবং যা আমরা সবাই ভালবাসি সেই মহান খেলা ক্রিকেট দেখাটাকে উপভোগ করবে।