পরিবহন ধর্মঘটে বিপর্যস্ত সড়ক যোগাযোগ, দুর্ভোগে যাত্রীরা
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৭
পরিবহন ধর্মঘটে রাজধানীর সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আঞ্চলিক যোগাযোগও বন্ধ। ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টায় শুরু হওয়া এই ধর্মঘট আজ শুক্রবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত চলবে। রাজধানীর ভিতরে গণপরিবহনের চলাচল ছিল সীমিত। অন্যান্য বড় শহরগুলো থেকেও একই খবর পাওয়া গেছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী ও পরিবহন শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের মুক্তি, বিভিন্ন হরতালে পরিবহন শ্রমিক হত্যার বিচার এবং ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এ ধর্মঘট ডেকেছে। শিমুল বিশ্বাস সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ আন্ত:জেলা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। কোন বাস আসেওনি। নগর পরিবহনের বাস চললেও সংখ্যায় তা ছিল কম। এতে অফিসগামী লোকজন ও স্কুল শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সায়েদাবাদ থেকে নারায়ণগঞ্জ, দাউদকান্দি ও মুন্সিগঞ্জ এবং মহাখালী থেকে গাজীপুরের দিকে ছোট ছোট মিনিবাস চলাচল করতে দেখা গেছে। শ্রমিক ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ জানান, রাজধানীর প্রতিটি প্রবেশপথেই ভোর থেকে পিকেটিং করে শ্রমিকরা। গাবতলীর অদূরে আমিনবাজার এবং মিরপুর মাজার রোডে তারা লাঠি হাতে অবস্থান নেয়।
আমাদের চট্টগ্রাম অফিস জানায়, পরিবহন ধর্মঘট চলাকালে চট্টগ্রাম থেকে সকল আন্ত:জেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক ও লরি চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে আসে। ভোর ছয়টা থেকে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরুর পর নগরীর অলঙ্কার মোড়, কদমতলি, দামপাড়া, অক্সিজেন মোড়, বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছাড়েনি। চট্টগ্রাম বন্দর অথবা কর্ণফুলি নদীর বিভিন্ন ঘাট থেকে পণ্যবোঝাই করে কোনো ট্রাক অথবা লরিকে চট্টগ্রামের বাইরে যেতে দেখা যায়নি।
সিলেট অফিস জানায়, সিলেটেও পরিবহন ধর্মঘট চলছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। সিলেট শহরেও ঢুকতে পারেনি কোন বাস। পরিবহন শ্রমিকরা সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চন্ডিপুলে সংবাদপত্রবাহী গাড়িসহ পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করে। রাজশাহী অফিস জানায়, পরিবহন ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে রাজশাহী। ধর্মঘটের কারণে রাজশাহী থেকে বিভাগের সর্বত্র ট্রেন ছাড়া সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বরিশাল অফিস জানায়, বরিশালে পরিবহন ধর্মঘট পালিত হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে এ বিভাগের ছয় জেলার যাত্রীদের। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল¬াবাদসহ কোন বাসস্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্ল¬ার বাস ছাড়েনি। নগরীর ভেতরে গণপরিবহনের সংখ্যাও ছিল কম। খুলনা অফিস জানায়, ধর্মঘটের কারণে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। রংপুর প্রতিনিধি জানান, রংপুর বিভাগে ২৪ ঘণ্টার সর্বাত্মক পরিবহন ধর্মঘট চলছে। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, দিনাজপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা থেকেও আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা ধর্মঘটের খবর দিয়েছেন।