‘আই অ্যাম মালালা’
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:১১
আব্বুর কলেজে এক জনাকীর্ণ কক্ষে বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক হলো। বেশিরভাগ ছাত্রেরই মত ছিল, বইটি নিষিদ্ধ করে আয়াতুল্লাহ’র ফতোয়া কার্যকর করার পক্ষে। আব্বুও বললেন, বইটি ইসলামের জন্য অবমাননাকর। তবে তিনি মানুষের কথা বলার অধিকার রক্ষা করা উচিত বলে জোরালো বক্তব্য রাখলেন। তিনি বললেন, আসুন প্রথমে আমরা বইটি পড়ি। তারপর যদি দেখা যায় যে, এই বইয়ের বিরুদ্ধে আমাদের কিছু বলার আছে, তখন আমরাও বই লিখে তার বক্তব্য খণ্ডন করি। তিনি বললেন, আপনারা কি মনে করেন, আমাদের ধর্ম ইসলাম এতই দুর্বল যে, এর বিরুদ্ধে একখানি বই লিখেই এর ক্ষতি করা যাবে? আমার ধর্ম ইসলাম এত দুর্বল নয়, কিছুতেই নয়।
জেহানজেব কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করার পর আব্বু প্রথমে একটা নামকরা বেসরকারি কলেজে ইংরেজি শিক্ষক হিসাবে কাজ করেন। কিন্তু তার বেতন ছিল খুব কম, মাত্র ১৬০০ টাকা। তিনি বাড়িতে সংসারের খরচ দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করলেন দাদা। এত কম বেতনে তিনি চলতে পারছিলেন না। প্রিয় তোর পেকাইকে বিয়ে করার জন্য কিছু কিছু করে যে সঞ্চয় করা দরকার—সেটাও পারছিলেন না তিনি। সেই স্কুলে শিক্ষকদের মধ্যে আব্বুর একজন বন্ধু ছিলেন। তার নাম মোহাম্মদ নায়িম খান। আব্বু আর তিনি স্নাতক ও মাস্টার্স ডিগ্রি করেছেন একই সঙ্গে—ইংরেজিতে। দুজনই ভদ্র, অমায়িক। কিন্তু স্কুল নিয়ে দু’জনই হতাশ। স্কুলে সবকিছুতে খুব কড়াকড়ি ছিল। শিক্ষক বা ছাত্র—কারো নিজস্ব মতামত বলতে কিছু ছিল না। শিক্ষকদের মধ্যেও বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক ছিল না। মনে হতো, তারা যেন একে অপরের ওপর রেগে আছে। সবকিছুর ওপরই ছিল স্কুল মালিকের কঠোর নিয়ন্ত্রণ। ভীষণ অস্বস্তিতে ছিলেন আব্বু। যেখানে শিক্ষক-ছাত্র সবাই মন খুলে হাসতে পারবে, কথা বলতে পারবে। মুক্তচিন্তার ওপর যে কোন খবরদারির বিরুদ্ধে ছিলেন আব্বু। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছু একটা ঝামেলা হওয়াতে নায়িম যখন চাকরি হারালেন, আব্বু তখন নিজেই স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা ভাবতে লাগলেন জোরেসোরে।
নিজের গ্রাম শাহপুরে স্কুল প্রতিষ্ঠা করাই ছিল আব্বুর বড় ইচ্ছা। সেখানে স্কুলের খুব দরকার ছিল। আব্বু বলেন, যে এলাকায় দোকান নেই, সেই এলাকাতেই তো দোকানের বেশি দরকার! কিন্তু যখন তারা সেখানে স্কুলের জন্য বাড়ি ভাড়া নিতে গেলেন, তখন তারা দেখলেন বড় বড় ব্যানারে লিখে রাখা হয়েছে, নতুন স্কুল খোলা হচ্ছে। তাদের আগেই কেউ সেখানে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। তাই তারা মিঙ্গোরাতে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিলেন। তারা ভাবলেন, যেহেতু সোয়াত একটি পর্যটন এলাকা এবং এখানে প্রচুর বিদেশি পর্যটক আসে, তাই এখানে ইংরেজি শেখাটা দরকারি হতে পারে।