নির্বাচনী উদ্দেশ্যে দুদক আইন সংশোধন :ফরাসউদ্দিন

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, সংশোধিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন ২০১৩ পাস করার পিছনে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি বলেন, যদি জাতীয় ঐকমত্য থাকতো তাহলে এটা (দুদক সংশোধিত আইন) হতো না। এ আইনে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী উদ্দেশ্য রয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন দুদক একা করতে পারবে না। সমাজকে সাথে নিয়ে এ কাজ করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সংশোধিত দুদক আইন এর মাধ্যমে দুদকের কার্যক্রম স্থবির করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন দুদকের কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তিনি আরো বলেন, দুদক আইন ২০০৪ এর ৩ (২) ধারা অনুসারে এই কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন হবে। এছাড়া দুদকের বিদ্যমান আইনের ২৪ ধারায় বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কমিশন স্বাধীন থাকবে। এর বাইরেও সংবিধানের ২৭ ধারায় সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। অথচ সংশোধিত দুদক আইন ২০১৩’তে এমন একটি ধারা (সিআরপিসি ১৯৭) যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে নাগরিকের শ্রেণি বৈষম্য করা হয়েছে। একইসাথে এই আইনের মাধ্যমে দুদকের কার্যক্রমকে স্তব্ধ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দুদকের কার্যক্রমকে স্তব্ধ করার এ প্রয়াস কখনো সফল হবে না। এই প্রয়াস কখনো আলোর মুখ দেখবে না। এ দেশের মানুষ কখনো তা মেনে নেবে না। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, কমিশনের সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরীসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। অপরদিকে দুদকের দায়ের করা মামলায় আসামি খালাস পাওয়া প্রসঙ্গে দুদক সচিব ও অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী বলেন, দুদকের ৯০ ভাগ মামলায় আসামিদের সাজা হওয়া উচিত। কারণ দুদক তথ্য-উপাত্তভিত্তিক মামলা করে থাকে। এক্ষেত্রে দুদক আইনজীবীদের গাফিলতির কারণে এমনটা হচ্ছে। দুদক এখন থেকে মামলার রায়ের কপি পাওয়ার পর গাফিলতি করা আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরো বলেন, শুধু আইনজীবী নন, দুদক কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।