জনসংহতির দুই নেতাসহ ৩ জনকে গুলি করে হত্যা

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির শিজকমুখ এলাকায় জনসংহতি সমিতির দুই নেতাসহ ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- বাঘাইছড়ি উপজেলা জনসংহতি সমিতির সভাপতি শশাংক চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক নন্দ কুমার চাকমা এবং স্থানীয় গ্রামবাসী জ্যোতিশ্বর চাকমা। জনসংহতি সমিতি এ ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষ ইউপিডিএফকে অভিযুক্ত করলেও তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার আমেনা বেগম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উপজেলা জনসংহতি সমিতির সহ-প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শিজকমুখ এলাকায় শশাংক চাকমা ও নন্দ চাকমা একটি দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী তাদের লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে ওই দুইজনসহ জ্যোতিশ্বর চাকমা নামে আরো এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ সুপার আমেনা বেগম জানান, যারা নিহত হয়েছেন তারা জনসংহতি সমিতির বলে জেনেছি, তবে কারা মেরেছে সেই সম্পর্কে নিশ্চিত কোন তথ্য জানা যায়নি। পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে ইউপিডিএফ-এর মুখপাত্র সোনামনি চাকমা বলেন, জনসংহতি সমিতির দুই গ্রুপের বিরোধে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জেনেছি। এর সাথে কোনভাবেই ইউপিডিএফ জড়িত নয়। এদিকে সংগঠনের দুই নেতা নিহতের প্রতিবাদে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা শাখা গতকাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গুণেন্দু বিকাশ চাকমার সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তারা সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান ও নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।