মা-বোন-ছেলেসহ ৪ জনকে কুপিয়ে হত্যা
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:৩০
নির্মম! লোমহর্ষক! নজিরবিহীন! নিজের মা, বোন, ছেলে ও এক নিকট আত্মীয়কে নিজের বাড়িতেই দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক যুবক। চাঞ্চল্যকর এই পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের গোলাপগঞ্জের লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম দক্ষিণবাগে। মা’র কাছে ১শ’ টাকা চেয়ে না পেয়ে বাক-বিতণ্ডার জের ধরে আব্দুস সালাম ফুরুক (৩৫) নামের ওই যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবারের চার সদস্যকে খুন করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সে মাদকাসক্ত ছিল বলেও দাবি করেছে পুলিশ ও স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সিলেট জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন, সালমের মা শামছুুন্নাহার (৫৫), বোন মরিয়ম বেগম (২২), শিশুপুত্র তানভীর আহমদ (৫) ও নানী হনুফা বেগম (৬৫)। গতকাল বেলা পৌনে তিনটার দিকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে মাত্র ২০ মিনিটে সালাম এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটায় বলে গ্রামবাসী জানিয়েছে। পরে তারা ওই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
গোলাপগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম ফজলুল হক শিবলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সালামকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, থানায় আটক অবস্থায় তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেখা গেছে। লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
লক্ষণাবন্দের সাবেক ইউপি সদস্য আনহার উদ্দিন ও স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত সালাম গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের পুত্র। সে নিয়মিত গাজা ও হেরোইন সেবন করতো। নেশার জন্য টাকা না পেয়ে সে নিজের মা, বোন, পুত্র ও নানীকে খুন করেছে। ঘটনার পর রক্তমাখা দা নিয়ে সে বাড়ির বাইরে বেপরোয়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে নিরস্ত্র করা হয়। পরে জনতা তাকে পাকড়াও করে পুলিশে সোপর্দ করে। এর আগেও সে বিভিন্ন সময় অনেকের উপরে হামলা চালিয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।