চট্টগ্রামে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি চিকিত্সার করুণ দশা
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:৩৩
চট্টগ্রামে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ গুলোতে জরুরি প্রসূতি সেবার করুণ অবস্থা। অভিজ্ঞ চিকিত্সক সংকট, সার্বক্ষণিক বিদ্যুত্ ও চিকিত্সা সরঞ্জামের সংকটে সংকটাপন্ন প্রসূতিরা চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত। নামেমাত্র প্রসূতি সেবা চালু রয়েছে সব সরকারি হাসপাতালে।
জরুরি চিকিত্সা সেবা না পেয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রসূতিদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শহরের হাসপাতালগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে তারা। বিলম্বে চিকিত্সার কারণে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে চিকিত্সকরা জানান। ১৬টি হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ করা ৪০টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই ২০টি নষ্ট হওয়ায় অচল পড়ে রয়েছে। মুমূর্ষুদের নিয়ে বিপদে পড়তে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিস জানায়, চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলায় ১৬টি সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি হাসপাতালকে জরুরি প্রসূতি সেবার আওতায় আনা হয়। এইগুলো হচ্ছে মিরসরাই, ফটিকছড়ি, আনোয়ারা, বাঁশখালী ও পটিয়া। চিকিত্সকরা জানান, জরুরি প্রসূতি সেবা প্রদানের জন্য আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, প্রয়োজনীয় রক্ত, অভিজ্ঞ গাইনি চিকিত্সক, অ্যানেসথেসিস্টসহ চিকিত্সা সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এসব ব্যবস্থা না করে নামেমাত্র জরুরি প্রসূতি সেবার আওতায় আনা হয়েছে এসব হাসপাতালকে। ফলে রোগীদের উন্নত চিকিত্সার জন্য এসেই চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। বিপদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে জটিল প্রসূতিদের।
সিভিল সার্জন অফিস জানায়, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে বিশেষ করে গাইনি কনসালটেন্ট ও অ্যানেসথেসিস্ট চিকিত্সকের চরম সংকট রয়েছে। পদায়ন করা হলেও তারা কর্মস্থলে বেশিদিন থাকতে চান না। গাইনি চিকিত্সকরা মহিলা হওয়ায় হাসপাতাল এলাকায় সরকারি কোয়ার্টার থাকলেও তারা সেখানে অবস্থান করতে চান না। তদবির করে সুবিধামত স্থানে বদলি হয়ে যান। অনেকেই চট্টগ্রাম শহরে থেকে আসা-যাওয়া করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চাকরি করে থাকেন। এতে করে জরুরি মুহূর্তে চিকিত্সক সংকটে পড়তে হয়। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে অ্যানেসথেসিস্ট চিকিত্সক একজনও নেই। ২০টি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল আঙ্গিনায় পড়ে রয়েছে। মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। যেসব অ্যাম্বুলেন্স সচল সেগুলো হাসপাতালের চিকিত্সক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশিরভাগ সময় ব্যবহার করেন।