বাঘার খেজুরের গুড়ের চাহিদা দেশজুড়ে
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪৫
রাজশাহীর বাঘার খেজুরের গুড়ের সুনাম ও চাহিদা রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে। চলতি শীত মৌসুমে প্রায় ১০ কোটি টাকার খেজুরের গুড় বিক্রির টার্গেট নিয়ে উত্পাদন শুরু করেছে স্থানীয় গাছিরা।
উপজেলার ২টি পৌরসভা এবং ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার পরিবার কৃষি ও খেজুর গুড়ের ওপর নির্ভরশীল। বাঘা উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩ হাজার খেজুর গাছের বাগান রয়েছে। এছাড়া সড়কপথ, রেললাইনের ধার, পতিত জমি, জমির আইল ও বাড়ির আঙিনায় রয়েছে আরো প্রায় এক লাখ খেজুর গাছ।
স্থানীয়রা জানান, একজন গাছি প্রতিদিন অর্ধশতাধিক খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করতে পারেন। চলতি শীত মৌসুমে পাঁচ হাজারেরও বেশি গাছি খেজুরের রস সংগ্রহ করতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। একটি গাছের রস থেকে গড়ে ২০/২৫ কেজি গুড় তৈরি করা সম্ভব।
উপজেলার আমোদপুরের কৃষক মনির বলেন, তার জমিতে প্রায় দেড়শ খেজুর গাছ রয়েছে। ওইসব গাছ থেকে রস সংগ্রহে দুইজন গাছি নিয়োগ করেছেন তিনি। তারা নিয়মিত গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করেন। তিনি আরো জানান, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে চাহিদা রয়েছে এখানকার সুস্বাদু খেজুর গুড়ের। তিনি সপ্তাহের দুইদিন হাটে গুড় বিক্রি করেন। তার মতো বহু কৃষক এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন খেজুর গুড় তৈরি ও বিক্রির কাজে।
স্থানীয় গুড় ব্যবসায়ী আবদুল মালেক ভাদু বলেন, এ অঞ্চলের পদ্মার চরেও প্রচুর খেজুর গাছ রয়েছে। ওইসব খেজুর গাছের গুড় থেকে এ অঞ্চলের মানুষ প্রতি শীত মৌসুমে গড়ে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা আয় করেন।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিতভাবে পতিত জমিতে খেজুর গাছ লাগানো গেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও গুড় রফতানি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হবে।