বিশ্বকাপে বাদ পড়াদের সেরা একাদশ

ব্রাজিলে আগামী বছরের ১২ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ৩২টি দেশের তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গেলেও ফুটবল দুনিয়ার অনেক তারকারই জায়গা তাতে। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের এসব তারকাও ফুটবলামোদীদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। কিন্তু দেশগত যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি বলে এই ফুটবলারদের কপাল পুড়লো। ব্রাজিলে দেখা যাবে না তাদের। বিশ্বের সব থেকে দামি ফুটবলার গ্যারেথ বেল থেকে শুরু করে জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ কিংবা রবার্ট লেভানডোভস্কির মতো এই সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকেও খেলতে দেখা যাবে না ২০১৪ বিশ্বকাপে। অথচ চাইলে দুর্ভাগা এই ফুটবলারদের নিয়েই গড়া যায় দ্যুতিময় এক একাদশ। পিটার চেক গোলরক্ষক: চেক প্রজাতন্ত্র, চেলসি জাতীয় দলের হয়ে পিটার চেক ১০৫টি এবং ক্লাবের হয়ে ৩০৩টি করে ম্যাচ খেলেছেন। চেক প্রজাতন্ত্রের জাতীয় দল এবং চেলসির এই গোলরক্ষক পর পর দুবার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারলেন না। কারণ চেক প্রজাতন্ত্র বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে দুবারই। ড্যানিয়েল অ্যাগার ডিফেন্ডার: ডেনমার্ক, লিভারপুল জাতীয় দল ৬১টি এবং ক্লাবের হয়ে ১৬১টি করে ম্যাচে খেলেছেন এই ডিফেন্ডার। বাছাই পর্বের খেলায় ডেনমার্ক নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। তবে ইউরোপ অঞ্চলের সেরা আট রানার্স আপের মধ্যে থাকতে না পারায় প্লে-অফে খেলতে পারেনি ডেনমার্ক। এখন এই ডিফেন্ডার লিভারপুলের রক্ষণভাগের খেলার দিকেই মনোনিবেশ করছেন। ব্রানিস্লাভ ইভানোভিচ ডিফেন্ডার: সার্বিয়া, চেলসি ব্রানিস্লাভ ইভানোভিচ জাতীয় দলের হয়ে ৬৭টি এবং ক্লাবের হয়ে ১৫২টি ম্যাচে খেলেছেন। কিন্তু ইউরোপের দুর্বল দল সার্বিয়া এবার বিশ্বকাপের প্লে-অফে খেলার যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে সার্বিয়ার এই রক্ষণভাগের খেলোয়াড়টি দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন। আলেকজান্ডার কোলারভ ডিফেন্ডার: সার্বিয়া, ম্যানচেস্টার সিটি জাতীয় দলের হয়ে ৪৫টি এবং সিটির হয়ে ৬৪টি ম্যাচ খেলা আলেকজান্ডার কোলারভও তার আরেক স্বদেশি ব্রানিস্লাভ ইভানোভিচের মতো ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন না। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলেছিল সার্বিয়া। তবে ২০১৪ সালের গ্রীষ্মটা এই ডিফেন্ডারের ঘরে বসেই কাটাতে হবে। মারেক হামসিক মিডফিল্ডার: স্লোভাকিয়া, নাপোলি দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপে স্লোভাকিয়ার অধিনায়ক ছিলেন মারেক হামসিক। তবে ব্রাজিলের টিকিট পেতে বাছাই পর্ব উত্তীর্ণ হতে পারেনি তার দল। ২৬ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার চাইবেন এবারের গ্রীষ্মে ক্লাব পরিবর্তন করে মোটা অংকের অর্থ উপার্জন করতে। জাতীয় দলের হয়ে ৬৮ ম্যাচে ১১টি এবং ক্লাবের হয়ে ২২৪টি ম্যাচে ৬৬টি গোল করেছেন এই মিডফিল্ডার। রবার্ট লেভানডোভস্কি স্ট্রাইকার: পোল্যান্ড, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড চলতি মৌসুম শুরু হওয়ার আগে ট্রান্সফার উইন্ডোতে সবার মুখে মুখে ছিল রবার্ট লেভানডোভস্কির নাম। তবে এই স্ট্রাইকারের দেশ পোল্যান্ড ব্রাজিলে খেলতে পারবে না। তাই জাতীয় দলের হয়ে ৫৬ ম্যাচে ১৮টি এবং ক্লাবের হয়ে ১০৩ ম্যাচে ৫৮টি গোল করা এই স্ট্রাইকার খেলতে পারবেন না আগামী বিশ্বকাপ। লেভানডোভস্কি মাঠে দারুণ সময় অতিবাহিত করছেন। প্যাপিস সিসে স্ট্রাইকার: সেনেগাল, নিউক্যাসল ইউনাইটেড জাতীয় দলের হয়ে ২৮টি এবং গত বছর নিউক্যাসল ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে পাপিস সিসে ক্লাবটির হয়ে ৬০টি ম্যাচ খেলেছেন। বাছাই পর্বের খেলায় আইভোরি কোস্টের কাছে হারার কারণে ব্রাজিলের টিকিট পায়নি সেনেগাল। আগামী গ্রীষ্মটা তাকেও মাঠের বাইরে থেকে কাটাতে হবে। সূত্র: মেইলঅনলাইন মার্টিন স্কারটেল ডিফেন্ডার: স্লোভাকিয়া, লিভারপুল স্লোভাকিয়ার এই স্ট্রাইকারটি জাতীয় দলের হয়ে ৬৫টি এবং লিভারপুলের হয়ে ১৬০টি ম্যাচ খেলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতীয় দলের হয়ে খেললেও ব্রাজিলে জায়গা পায়নি তার দল। ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন মিডফিল্ডার: ডেনমার্ক, টটেনহ্যাম হটস্পার এরিকসেন আয়াক্সের হয়ে ১১৩টি ম্যাচ খেলার পর চলতি বছরেই টটেনহ্যাম হটস্পারে এসেছেন। বর্তমান ক্লাবের হয়ে এই মিডফিল্ডার সাতটি ম্যাচ খেলেছেন। সমপ্রতি ইনজুরিতে পড়েছেন ডেনমার্কের হয়ে ৪২টি ম্যাচ খেলা এই মিডফিল্ডার। তবে তার জন্য দুঃসংবাদ এখানেই শেষ নয়। ব্রাজিলেও নিজের নৈপুণ্য দেখানোর সুযোগ পাবেন না ডেনমার্কের এই মিডফিল্ডার। গ্যারেথ বেল উইঙ্গার: ওয়েলস, রিয়াল মাদ্রিদ ওয়েলশের হয়ে ৪৩ ম্যাচে ১১টি এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৭ ম্যাচে তিনটি গোল করেছেন গ্যারেথ বেল। তবে পরিসংখ্যান দেখে বেলের বিচার করা ঠিক হবে না। কারণ এই মুহূর্তে বিশ্বের সব থেকে দামি ফুটবলার তিনি। কিছুদিন আগেই রিয়াল মাদ্রিদ এই ওয়েলশ তারকাকে এক হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়েছে। কিন্তু তার জন্য আজীবনের আফসোস হলো, ওয়েলশ কখনো বিশ্বকাপে খেলতে পারবে না। তাই বেলও কোনোদিন কোনো বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন না। জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ স্ট্রাইকার: সুইডেন, পিএসজি বর্তমান সময়ের সব থেকে প্রতিভাবান স্ট্রাইকারদের একজন ইব্রা। জাতীয় দলের হয়ে ৯৬ ম্যাচে ৪৮টি এবং বর্তমান ক্লাব পিএসজি’র হয়ে ৪৫ ম্যাচে গোল করেছেন ৩৮টি। ৩২ বছর বয়সে এসেও দারুণ ফর্মে আছেন এই স্ট্রাইকার। প্লে-অফের শেষ খেলায় দুটি গোল করেও শেষরক্ষা হয়নি সুইডেনের। আর কোনো বিশ্বকাপ খেলাও প্রায় অসম্ভব ইব্রার জন্য। কারণ পরের বিশ্বকাপের সময় তার বয়স হবে ৩৬ বছর। তবে ইব্রা জানিয়েছেন, যে বিশ্বকাপে তিনি খেলতে পারবেন না তা তিনি দেখবেন না।