মারজিয়া প্রভার ট্যাবু ভাঙার সংগ্রাম

  মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

 

ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কাজ করতে পছন্দ করেন মারজিয়া। নারীদের সুখ-দুঃখ তাকে খুব ভাবাতো। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় সে ভাবনা তার মাথায় বরাবরই ছিলো। মানুষের জন্য কিছু করা, তাদের পাশে দাঁড়ানো। মারজিয়া দায়িত্ব বলে মনে করেন। দলবল নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে ছুটে যান। মেয়েদের বুঝাতে চেষ্টা করেন, মাসিক কোনো রোগ নয়। মাসিকের সময় করণীয় কি। স্কুলে বসেই যেন ছাত্রীরা প্যাড পায়। সে জন্য তিনি চালু করেন ইমারজিনসি প্যাড কর্নার।

নারীর ঋতুশ্রাব নিয়ে কথা। এটা প্রকাশ্যে বলার কি আছে। মেয়েতো দেখছি লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে বসে আছে। প্যাড তো বিতরণ করছেন। এরপর কনডম বিতরণ শুরু করেন। শুরুতে মারজিয়া এমন নোংরা কটূক্তি শুনেছেন। ভদ্রবেশি শিক্ষিতরাই এসব জোড় গলায় বলেছে। এসব পাত্তা দেইনি মোটেও। ভালো কাজ করতে গেলে ওমন বলবে অনেকে বললো মারজিয়া প্রভা।  ঋতুশ্রাবে প্যাড ব্যবহার নিয়ে লেখালেখি করলেন। ফলসরূপ দুটো বড় গ্রুপ তাকে ব্যান করে দেয়। মারজিয়া বললো, মেয়েরাই যেন মেয়েদের শত্রু। মেয়েরাও তাকে গালিগালাজ করেছে। রুট লেভেলে কাজ করতে গিয়ে তেমন বাধার মুখে পড়েননি বলে তিনি জানান। 

আলোকিত আগামী নন প্রফিট ভলান্টিয়ারিং অর্গানাইজেশন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মারজিয়া প্রভা। টুকটাক নিজে সমাজ কল্যাণমূলক কাজ করতেন। বড় করে করতে গেলে সংগঠন দরকার। সে ভাবনা থেকেই আলোকিত আগামীর প্রতিষ্ঠা। বললেন মারজিয়া। অনলাইনে প্রচার প্রচারণা চালানো হয়। ভলানন্টিয়ার সংগ্রহ করা হয়। প্রজেক্ট অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহ করা হয়। আলোকিত আগামীর তিনটি প্রজেক্ট চলমান রয়েছে। Donate a Pad for Hygiene Bangladesh:  স্কুল পড়ুয়া কিশোরীদের মাসিক বিষয়ে সচেতনতা করা, স্কুলে প্যাড সার্ভিস চালু করা। এই প্রজেক্টর মূল উদ্দেশ্য এটাই। পথের ইশকুল: পথ শিশুদের প্রি স্কুল হচ্ছে পথের ইশকুল। পথ শিশুদের বেসিক এডুকেশন শিক্ষা দেওয়া হয়। ফর্মাল এডুকেশনের উপযোগী করা হয়। ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতা, দেশীয় কৃষ্টি কালচার শেখানো হয়। উপযোগী হলে আবাসিক স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়। মূলত দানশীল ব্যক্তিদের ডোনেশনেই এই কার্যক্রম এর খরচ চলে। বললো মারজিয়া প্রভা। জানা যায়, দুইজন ছাত্রকে ইতিমধ্যে পুনর্বাসন করা হয়েছে। একটুসখানি কুইজ: শহরের স্কুলে নানা রকম কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের স্কুলগুলোতে যেটা কম হয়। হাওর, দ্বিপ, চর, পাহাড় এলাকার স্কুলগুলো তে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আলোকিত আগামী। কেবল বই পড়ে নয়। মাথা খাটিয়ে উত্তর দিতে হয় এই কুইজের। জানালো মারজিয়া প্রভা।