পিঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ৩০ টাকা
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২৯
সরবরাহ বাড়ায় কমতে শুরু করেছে পিঁয়াজের ঝাঁজ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরাবাজারে পিঁয়াজের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে নতুন মৌসুমের দেশি পিঁয়াজ ওঠার পাশাপাশি ভারতেও নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কমতির দিকে। এছাড়া গত সপ্তাহে বিরোধী দলের হরতালসহ কোন আন্দোলন কর্মসূচি না থাকায় সরবরাহ বেড়েছে পিঁয়াজের। ফলে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে পিঁয়াজের বাজারে।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, বর্তমানে বাজারে আমদানিকৃত যে পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তা বেশি দামে কেনা। তারপরও দাম কমছে। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজারে পিঁয়াজের দাম কমতির দিকে। ফলে কম দামে নতুন পিঁয়াজ আমদানি করলে দেশের বাজারে দাম আরো কমে যাবে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার ও নিউমার্কেটসহ কয়েকটি বাজারে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে পিঁয়াজের বাজারের এই চিত্র পাওয়া যায়।
গতকাল খুচরাবাজারে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পিঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কম।
গত আগস্টের পিঁয়াজের বাজার বাড়তে শুরু করে। কোরবানী ঈদের আগে ও পরে পিঁয়াজের দাম ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
এর কারণ হিসেবে পিঁয়াজ আমদানিকারকরা জানান, ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে অতিবৃষ্টি ছাড়াও রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে খরার ফলে প্রায় ৪০ শতাংশ ফলন কম হয়েছে। এরই বিরূপ প্রভাব পড়ে দেশটির পিঁয়াজের বাজারে। আর বাংলাদেশ যেহেতু তার চাহিদার উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ পিঁয়াজ ভারত থেকে আমদানি করে ফলে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। তবে এখন ভারতের পিঁয়াজের বাজারেও সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।
সেখানে এখন প্রতি টন পেঁয়াজের দাম ৯০০ ডলার থেকে ৪৬০ ডলারে নেমে এসেছে। তবে ভারত এখনো তাদের প্রতি টন পিঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ১১৫০ ডলার বহাল রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরবরাহ বাড়ায় শিগগিরই ভারত তাদের পিঁয়াজের রপ্তানি মূল্য কমাবে।
এদিকে দেশের পাইকারি বাজারে যেভাবে পিঁয়াজের দাম কমেছে সে তুলনায় খুচরাবাজারে এর প্রভাব পড়েনি।
বর্তমানে রাজধানীর শ্যামবাজারে প্রতি কেজি দেশিয় পিঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু খুচরাবাজারে এরচেয়ে অনেক বেশি দামে পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কাওরানবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী লোকমান হাকিম বলেন, পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাজারে ধীরে ধীরে পিঁয়াজ ছাড়ছেন। ফলে খুচরাবাজারে খুব বেশি দাম কমেনি। তবে কিছুদিনের মধ্যেই খুচরাবাজারেও দাম আরও কমবে। তিনি বলেন, পিঁয়াজ কাঁচাপণ্য। বেশি দামে বিক্রির জন্য মজুদ করার কোন উপায় নেই।