মেঘালয়ের পাহাড় ধসে চাপা পড়েছে শত শত একর জমি
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২১:২৬
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ে অপরিকল্পিত কয়লা ও চুনাপাথরের জন্য খননকৃত কোয়ারির মাটি ও বালু পাহাড়ের উপর থেকে উত্পত্তি ১৮টি ছড়া দিয়ে বিগত ৫ বছর যাবত্ নেমে আসার কারণে মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো। ফলে এলাকার বসতবাড়ি, স্কুল, রাস্তাঘাট, পুকুরসহ শত শত একর ফসলি জমি বালুর নিচে চাপা পড়ছে। এতে কয়েক হাজার হেক্টর আয়তনের ছোট-বড় প্রায় ২০টি হাওর বালুর স্তর পড়ে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। প্রথমদফা ঢল দেখে স্থানীয় জনসাধারণসহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল চুনাপাথর ও কয়লা খনি সমৃদ্ধ ভারতের মেঘালয় পাহাড় হয়তো কোন কোয়ারি থেকে এরকম হয়েছে। ২০০৭ সালের পর ৬ বছর বর্ষায় পাহাড়ী ঢলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বালু ও পাথর পড়া অব্যাহত থাকার কারণ নির্ণয় করতে পারছে না। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী সবাই উদ্বিগ্ন। মেঘালয় পাহাড়ে মনাইছড়া, কড়ইগড়া, চিত্ত, রাজাই, গারো, চাঁনপুর, বুরুঙ্গা, পাগলা, বড়ছড়া, টেকেরঘাট, লাকমা, লালঘাট, বাঁশতলা, চারাগাঁও, কলাগাঁও, রন্দু, সুন্দরবন, বাগলি, নয়াছড়া নামে ১৮টি পাহাড়ি ছড়া রয়েছে। এ ছড়াগুলো এপারে এসে সীমান্ত নদী জাদুকাটা, মাহারাম, বৌলাই, রক্তি, পাটলাই নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। নয়াছড়া দিয়ে যে পাথর আসে, সেগুলো বিবর্ণ। টুকরোগুলো মাটির র্উ্বরতা নষ্ট করে দিচ্ছে ফলে চাষাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত এলাকাবাসী জানান, ১৮টি ছড়া দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি ও বালু প্রবাহিত হলেও নয়াছড়া দিয়ে পানির সঙ্গে অধিক বালু ও পাথর আসছে। এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হক বলেন, সীমান্তের গ্রামগুলোর মানুষ প্রাকৃতিক পরিবেশের ও জীবনের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে আছে।