চলনবিলে সরিষা ও ভুট্টায় পোকার আক্রমণ

চলনবিলের সদ্য গজিয়ে উঠা সরিষা ও ভুট্টার চারা কাটুই পোকার আক্রমণে উজাড় হচ্ছে কৃষকের ক্ষেত। কীটনাশক ব্যবহার করেও কাটুই পোকা দমন করতে না পেরে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলনবিলের ৯ উপজেলায় সরিষার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৭ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। তন্মধ্যে তাড়াশ, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলায় সরিষার আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার হেক্টর। এ বছর নির্ধারিত সময়ের ১ মাস আগে বিলের ক্ষেতখামার থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়া্য় নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ হতেই কৃষকরা সরিষার আবাদ শুরু করে। ভাল ফলন পাবার আশায় অতিরিক্ত চাষ ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করে সরিষার আবাদ করছে কৃষক। কিন্তু বিপাকে পরেছে কাটুই পোকার উপদ্র্যবের। দিনেএ পোকাকে খুঁজে পাওয়া না গেলেও রাতের আঁধার শুরু হতেই চাষ করা ঢিলা মাটির মাঝ থেকে বের হয়ে আসছে হাজার হাজার কাটুই পোকা। এ পোকা যে জমিতে আক্রমণ শুরু করছে সেই জমি উজার হয়ে যাচ্ছে সরিষার চারা। কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শে কীটনাশক ব্যবহার করেও আশানুরূপ ফল পাচ্ছে না। এদিকে গত বছরের তুলনায় এ বছর ভুট্টার আবাদের পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে। চলনবিলের কৃষকরা রসুনের মতই বিনা চাষে ভুট্টার আবাদ করে আসছিল। কিন্তু এ বছর সেপ্টেম্বর মাসে শেষ সপ্তাহে চলনবিলে ক্ষেতখামার থেকে পানি নেমে যায়। এরপর জমিতে ব্যাপক ঘাস গজায়। যার দরুন বিনা চাষে কাদার উপরে ভুট্টার বীজ বপন করা সম্ভব না হওয়ায় চাষ দিয়ে ভুট্টার বীজ বপন করেছে। এর ফলে কাটুই পোকার উপদ্রব ভুট্টা ক্ষেতেও অধিকহারে বিস্তার ঘটেছে। ভুট্টা চাষিরাও সরিষা চাষিদের মতই বিপাকে পরেছে। আত্রাই থেকে বাঘাবাড়ি পর্যন্ত সর্বত্রই কমবেশি কাটুই পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পরেছে।