সোনা মসজিদ স্থলবন্দর
ফল আমদানিতে আড়াই মাসে ১৬ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৩৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ফল আমদানিতে চলছে রাজস্ব ফাঁকির মহোত্সব। কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে গত আড়াইমাসে অন্তত ১৬ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। বন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বন্দর সূত্র জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে নভেম্বর মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ২ হাজার ২০৯ ট্রাক ফল আমদানি করা হয়েছে। আমদানি ফলের মধ্যে রয়েছে আপেল, আঙুর ও আনার। এইসব ফল আমদানিতে টন প্রতি ৩৩ হাজার ২১৯ টাকা রাজস্ব দিতে হয়। সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দরে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ছয় চাকার ট্রাকে ১৪ টন এবং ১০ চাকার ট্রাকে ১৮ টনের বেশি মালামাল বহন করা যাবে না। আর সিএন্ডএফ এজেন্টরা। ছয় চাকার ট্রাকে ১৬-১৭ টন এবং দশ চাকার ট্রাকে ২০-২১ টন পণ্য নিয়ে আসছে। অথচ রাজস্ব দিচ্ছে ১৪ টন ও ১৮ টনের। ফলে প্রতি ট্রাকে দুই থেকে তিন টন ফলের রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। সেই অনুযায়ী গত আড়াই মাসে ফল আমদানিতে অন্তত ১৬ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে। সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাজুল ইসলাম ও সদস্য হারুনুর রশীদ ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছেন। প্রতি ট্রাকে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়। এক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য সংস্থাকে ট্রাক প্রতি ২২ হাজার টাকা উেকাচ দিতে হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ বিজিবির ৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুরুল আলম জানান, গত ২০ নভেম্বর বিল অব এন্ট্রি বা সরকারি ঘোষণার অতিরিক্ত আমদানি করা ১৫৫৩ কার্টন আপেল জব্দ করে বিজিবি। সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে অহরহই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ফল আমদানি করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের সুপারিনটেনডেন্ট জিয়াউর রহমান জানান, বন্দরের অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কারণে সবসময় আমদানি পণ্য পরিমাপ করা সম্ভব হয় না। এছাড়াও ট্রাকে কার্টন ভর্তি ফল ওজন করা হয় বলে প্রকৃত ওজন পাওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে কর ফাঁকির সুযোগ আছে। তবে উেকাচ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।