প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞদের অভিমত
বিনিয়োগ আকর্ষণে চাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৪০
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সরকারি নীতিমালার ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করিডোর (সড়ক-মহাসড়ক বা নৌ পথ) সার্বক্ষণিক সচল রাখা, কর্মক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স ও শ্রমিকের যথাযথ মজুরি নিশ্চিত করতে হবে বলে দাবি জানান তারা। শনিবার রাজধানীর ঢাকা চেম্বার ভবনে আয়োজিত এক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।
এশিয়ার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই), ঢাকা চেম্বার ও জাতিসংঘের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক আঞ্চলিক সংস্থা ইউএনএসক্যাপ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিএফটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী ড. মজিবুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। ঢাকা চেম্বার সভাপতি সবুর খান বিশেষ অতিথি ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফটিআইয়ের সিনিয়র ফেলো ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ।
অনুষ্ঠানে ড. মজিবুর রহমান দেশের অর্থনীতির স্বার্থে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যবহূত পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ও অন্যান্য সাপ্লাই চেইনকে রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে রাখার আহ্বান জানান। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ড অংশে সামপ্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার দরুণ আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, চীন থেকে পণ্য আনার ব্যয়ের তুলনায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনার খরচ বেশি হচ্ছে। সার্বিক কারণে বিদেশি বিনিয়োগ কমছে। বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর তাগিদ দেন তিনি।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করেন তিনি। তার ভাষায়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিওটিও) দোহা রাউন্ড ঝুলে থাকাসহ আরো কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি না হওয়ায় এশিয়ার অনেক দেশের মধ্যে হতাশা কাজ করছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বাণিজ্য নীতিমালা, বাণিজ্য সহায়তা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্প উন্নয়ন, সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে পরামর্শ ও সমন্বয়, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, নীতিমালা প্রণয়নে সোস্যাল ডায়ালগ নিশ্চিতকরণের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে এই অঞ্চলে দেশগুলোর পণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশর নিচে এবং আগামী বছর নাগাদ তা ৭ শতাংশ হবে। এছাড়াও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলো ৩৩ শতাংশ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পেরেছে। প্রতিবেদনে রপ্তানি ও সমুদ্রবন্দর সংক্রান্ত সেবার মানদণ্ড অনুয়ায়ী ১৭০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৭ তম হিসেবে স্থান পেয়েছে। অনুষ্ঠানে ডিসিসিআইয়ের পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।