কমলগঞ্জে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বর্ণিল বর্ষবরণ
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৩
গতকাল ২৩ নভেম্বর ছিল খাসিয়া সম্প্রদায়ের বছরের শেষ দিন। পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে কমলগঞ্জের মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে নব উদ্যমে দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজন করা হয়। নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে খেলাধুলা, সঙ্গীত ও নানা আয়োজনে গতকাল শনিবার মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির ফুটবল মাঠে খাসিয়া বর্ষের বিদায়ী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
“কা সেম্প কুটসেলম (ইয়ার এন্ডিং খাসি ফ্যাস্টিবল) আয়োজন কমিটি ও খাসি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের সহায়তায় মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খাসিয়া বর্ষের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) প্রকাশ কান্তি চৌধুরী। মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান আদিবাসী নেতা জিডিসন সুচিয়াং কর্ডরের নেতৃত্বে সিলেট বিভাগের ৬৫টি খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান মাথায় পাগড়ি পরে এবং বর্ণিল সাজে খাসিয়া ছেলে-মেয়েরা সকাল ৯টায় আগত অতিথিদের বরণ করে নেয়। খাসি বর্ষ বিদায় অনুষ্ঠানে ৬৫টি খাসিয়া পুঞ্জির স্টল বসে। সকাল থেকে ঐতিহ্যবাহী খাসিয়া খেলাধুলা, খাসিয়া সংগীত প্রতিযোগিতা, খাসিয়া পোশাক প্রদর্শনী, তৈলযুক্ত বাঁশে আরোহণ ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে তীর নিক্ষেপ ছিল উল্লেখযোগ্য খেলা। খাসিয়া ছেলে-মেয়েরা নিজেদের সংস্কৃতিকে ধারণ করে বর্ণিল পোশাক পরিধান করে।
মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান জিডিসন সুচিয়াং কর্ডর জানান, খাসিয়াদের রীতি অনুযায়ী ২৩ নভেম্বর বছরের শেষ দিন। এ দিনটিকে স্মরণ করতে আয়োজন করা হয় নানান কর্মসূচি। দিনব্যাপী বিদায় অনুষ্ঠানের পর খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রার্থনায় থাকে ২৪ নভেম্বর নতুন বছরে প্রথম দিন থেকে নিজেদের আয়-উন্নয়ন, সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা। বছরের শেষ দিনে খাসিয়া সম্প্রদায়ের সবাই আনন্দে আত্মহারা থাকে। তাদের বিশ্বাস- এ আনন্দ থাকবে নতুন বছর জুড়ে।