জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা

বিজ্ঞান

পলাশ মজুমদার,সহকারি শিক্ষক

নাসিরনগর আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

পরমানুর গঠন

সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ, তোমাদের বিজ্ঞান বইয়ের ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায়ের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন স্তর অনুযায়ী দেয়া হলো। আশা করি আগামী জে.এস. সি পরীক্ষার জন্য সহায়ক হবে।

১নং

A একটি মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা ১১

B একটি মৌল যার পারমাণবিক সংখ্যা ১৭

C একটি মৌল যার ভর সংখ্যা ২৪ এবং পারমাণবিক সংখ্যা ১২

ক. আইসোটোপ কাকে বলে?           ১

খ. পরমাণু আধান নিরপেক্ষ কেন? ব্যাখ্যা কর।       ২

গ. C মৌলটির ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা বের কর।             ৩

ঘ.  A এবং B মৌল দ্বারা যৌগ গঠন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করো।             ৪

উত্তর : ক। যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে।

খ। মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণাকে পরমাণু বলে। আসলে পরমাণু অবিভাজ্য নয় বা ক্ষুুদ্রতম কণিকাও নয়। পরমাণু বিভাজ্য। এরা ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। পরমাণুতে ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত, প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত এবং নিউট্রন আধানবিহীন। পরমাণুতে যে পরিমাণ ঋনাত্মক আধানযুক্ত ইলেকট্রন থাকে ঠিক সেই পরিমাণ ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন থাকে। তাই পরমাণু আধান নিরপেক্ষ হয়।

গ। উদ্দীপকের C মৌলটি হল ম্যাগনেশিয়াম। যার পারমাণবিক সংখ্যা ১২। কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা আসলে ঐ মৌলের একটি পরমাণুতে প্রোটনের সংখ্যা। তাই এক্ষেত্রে C মৌলটির পরমাণুতে প্রোটন আছে ১২টি।

আবার আমরা জানি, কোন পরমাণুতে প্রোটন আর ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান। তাই C মৌলের একটি পরমাণুতে ইলেকট্রন রয়েছে ১২টি।

কোন পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রনের সংখ্যা = ঐ মৌলের ভরসংখ্যা

অর্থাত্ C মৌলের নিউট্রন সংখ্যা = C মৌলের ভরসংখ্যা -C মৌলের প্রোটন সংখ্যা

তাই C মৌলের নিউট্রন সংখ্যা = ২৪-১২  =১২

ঘ। A মৌলটি হল সোডিয়াম (Na) এবং B মৌলটি হল ক্লোরিন (Cl)। A মৌলের ইলেকট্র্রন বিন্যাস হলো ২,৮,১। A মৌলের ইলেকট্রনগুলো তিনটি স্তরে বিন্যস্ত। এর ১ম শক্তিস্তরে ২টি, ২য় শক্তিস্তরে ৮টি এবং ৩য় শক্তিস্তরে ১টি করে ইলেকট্রন রয়েছে। A মৌলের ৩য় শক্তিস্তরে ১টি ইলেকট্রন থাকায় এটি স্থিতিশীল পরমাণু নয়। তাই এটি ধাতু হওয়ায় ১টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে B মৌল ক্লোরিনকে দান করায় A মৌলটি ধনাত্মক আধানযুক্ত ক্যাটায়নে পরিণত হয়েছে এবং A মৌলটি স্থিতিশীল হয়েছে।

আবার B মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস হল ২,৮,৭। B মৌলের ইলেকট্রনগুলো তিনটি স্তরে বিন্যস্ত। এর ১ম শক্তিস্তরে ২টি, ২য় শক্তিস্তরে ৮টি এবং ৩য় শক্তিস্তরে ৭টি ইলেকট্রন রয়েছে। B মৌলের ৩য় শক্তিস্তরে ৭টি ইলেকট্রন থাকায় এটি স্থিতিশীল পরমাণু নয়। B মৌলটি অধাতু হওয়ায় ৭টি ইলেকট্রন ত্যাগ করা সম্ভব নয়। তাই এটি A মৌল হতে ১টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আধানযুক্ত অ্যানায়নে পরিণত হয়েছে এবং B মৌলটি স্থিতিশীল হয়েছে।

Na                                           Na++e-

Cl+e-                                    Cl-

Na + cl                   Na+ Cl- বা Nacl

এভাবে সোডিয়াম পরমাণু ১টি ইলেকট্রন ত্যাগ করে ক্যাটায়নে পরিণত হয় এবং Cl পরমাণু ১টি ইলেকট্রন গ্রহণ করে অ্যানায়নে পরিণত হয়।

ফলে তাদের মধ্যে একটি আকর্ষণ বল কাজ করে এবং এরা একে অন্যের সাথে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড (Nacl) নামক যৌগ গঠন করে।