সরকারি তহবিলে আগ্রহ নেই শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:০৮
শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় সরকার ৩০০ কোটি টাকা (প্রথম কিস্তি) পুনঃঅর্থায়নযোগ্য তহবিল অনুমোদন দিলেও তা নিতে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এ তহবিলের সুবিধা পেতে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। অথচ আইসিবিতে (ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) এ পর্যন্ত আবেদন পড়েছে মাত্র একটি। মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোতেও তেমন কোনো আবেদন আসছে না। তাই খোদ বিএসইসি (বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) ও আইসিবি হতাশ।
বিএসইসি কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে এ তহবিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নানাভাবে সরকারকে রাজি করানোর পর প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড় করা হয়েছে। অথচ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তবে শেষদিকে কিছু আবেদন আসবে বলে বলে আশা করছেন তারা। তাও প্রত্যাশার তুলনায় হবে অনেক কম।
আবেদন কম আসার পিছনে শর্তের জটিলতাকে দায়ী করেছেন অনেকে। বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার এসোসিয়েশন (বিএমবিএ) সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো নানাভাবে বুঝিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে পারছে না। অল্পকিছু সুদ মওকুফের জন্য এত শর্ত পূরণে তারা রাজি নন। শর্তের জটিলতা প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালকদের সিআইবি ছাড়পত্র, বিভিন্ন ধরনের চুক্তি এবং ব্লক একাউন্টের জন্য সফ্টওয়্যার তৈরিসহ নানাদিক উল্লেখ করেন। তারা বলছেন, ২০১১ সাল বা ২০১১-১২ অর্থবছরে নেয়া ঋণের সুদ অর্ধেক মওকুফে এত শর্ত পালনে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নেই। তাই শেষ পর্যন্ত তহবিলের মূল উদ্দেশ্যই বিফলে যেতে বসেছে। তবে শেষপর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ১০-১২ শতাংশ আবেদন করতে পারেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএমবিএ সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএমবিএ সভাপতি এ হাফিজ ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, ঋণ নেয়ার জন্য যে শর্ত দেয়া হয়েছে তা কিছু কিছু ক্ষেত্রে পালন করা কষ্টকর। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর জন্যও জটিলতা রয়েছে। এরপরও ব্যাংকগুলো এ ব্যাপারে আগ্রহী। তবে তহবিল গঠনের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে হলে শর্তগুলো সহজ করতে হবে। তবেই বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, নেগেটিভ ইক্যুইটির (বিনিয়োগকারীর মূলধন শূন্য হয়ে মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের অর্থও কমে যাওয়া) বিনিয়োগকারীরা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন না। এজন্য তহবিলের বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়েছে। এরপরও তারা আগ্রহী হচ্ছে না। ঋণ পরিশোধ না করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা এড়িয়ে যেতে চাইছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পুনরায় বিনিয়োগ করতে চাইছেন না। তাদের বিনিয়োগকৃত মূলধন যেহেতু শূন্য হয়ে গেছে (ইক্যুইটি ঋণাত্মক) তাই মার্জিন ঋণের অর্থ পরিশোধ না করে তারা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সাথে যোগাযোগ করাই বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে এ ভার সইতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। এ অবস্থায় বিও অ্যাকাউন্টগুলো সচল করতে হলে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকেই ঋণ দেয়ার পরামর্শ দেন বিএমবিএ নেতৃবৃন্দ। যেহেতু এক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো কর্পোরেট গ্যারান্টি দিচ্ছে তাই তহবিলের নিশ্চয়তা থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবেদনের আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করেও খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব অ্যাকাউন্টে নেগেটিভ ইক্যুইটি থাকায় তারা ঋণ নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে শেষে কিছু আবেদন পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।