হেফাজত আমীরের দোয়া নয়, বদদোয়া নিয়ে গেছেন এরশাদ
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:১২
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ ীয় মহাসচিব প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, হেফাজত আমিরের সাথে সাক্ষাত্ করতে এসে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আল্লামা শাহ আহমদ শফী’র দোয়া নয় বরং বদদোয়াই নিয়ে গেছেন। হেফাজত আমির মাঠে-ময়দানে যারা ইসলামের পক্ষে কাজ করছেন, তাদের সাফল্য কামনা করে দোয়া করেছিলেন। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বর্তমান রাজনৈতিক যে অবস্থান, তাতে এটা কখনোই তার জন্য দোয়া বলা যায় না বরং বদদোয়াই বলতে হয়।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, গত ১৭ নভেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সাথে তার কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। বৈঠকে তখন হেফাজতে ইসলামের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে মহাসচিব হিসেবে আমিও উপস্থিত ছিলাম। কুশল বিনিময় শেষে হেফাজত আমির এরশাদকে ঈমান-আমল ও ইসলামের পথে চলার জন্য উপদেশ দেন। পাশাপাশি ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদীদের বিভিন্ন অপতত্পরতার কথা তুলে ধরে এরশাদকে তার দলীয় অবস্থান থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, হেফাজত আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী এরশাদকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেছিলেন, দেশে যে হারে ইসলাম ও মুসলমানদের উপর একের পর এক আঘাত হানা হচ্ছে, তা কোনভাবেই মানা যায় না। সরকার কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস করবে না বলে ক্ষমতায় আসলেও ইসলাম অবমাননাকারীদের কোন বিচার করছে না।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এরশাদ তখন বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও ধর্মীয় শিক্ষাসহ বিভিন্ন স্তরে জাতীয় পার্টির বিগত সরকার ইসলামের পক্ষে কাজ করেছিল’। এরশাদ আরো বলেছিলেন, ‘বর্তমান সরকার সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসের ধারা বাদ দিয়েছে। আমি প্রতিবাদ করলে তারা জানিয়েছে যে, নাস্তিকদের চাপে তারা এটা করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামকে বাদ দিতে আমি দেইনি’।
বিবৃতিতে আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, এ সময় সংগঠনের মহাসচিব হিসেবে এরশাদকে হেফাজতে ইসলামের অরাজনৈতিক অবস্থান ও ঈমান-আক্বিদা ভিত্তিক আদর্শিক আন্দোলন সম্পর্কে অবহিত করে আমি বক্তব্য দিয়েছি। এরশাদকে তখন আরো বলেছিলাম, ঈমান-আক্বিদার সুরক্ষা এবং দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে হেফাজতের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নে সমর্থন ও ভূমিকা রাখার জন্য দলমত নির্বিশেষে আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে থাকি।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, হেফাজতে ইসলামের অরাজনৈতিক দৃঢ় অবস্থানের কথা জেনে এরশাদ তার প্রতি হেফাজতের সমর্থন কামনার কোন সুযোগ না পেয়ে বলেছিলেন, আমি সমর্থন লাভের জন্য নয়, হুজুরের দোয়া নেয়ার জন্য এসেছি। দোয়ার সময় হুজুর এরশাদের মনের সত্ উদ্দেশ্য কবুল এবং যারা ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে কাজ করবে, তাদের সাফল্যের জন্য দোয়া করেছিলেন।
আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বিবৃতিতে আরো বলেন, হেফাজত আমির একজন খুবই উঁচু মাপের আধ্যাত্মিক ধর্মীয় গুরু ও বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব। উলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতার কাছে তার দোয়ার গুরুত্ব অত্যাধিক। তিনি যে শর্তে এরশাদ সাহেবকে দোয়া করেছিলেন, তাতে এরশাদ সাহেবের বর্তমান রাজনৈতিক ভূমিকা ও তত্পরতায় এটা তার জন্য বদদোয়া হিসেবেই সাব্যস্ত হচ্ছে। এরশাদ ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষে নানা মুখরোচক বুলি আওড়ালেও কার্যক্ষেত্রে বর্তমানে তার ইসলাম বিরোধী ভূমিকাই জাতির কাছে স্পষ্ট হয়েছে।