‘লোভে পড়ে খুনি হলাম’
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০১৩, ২৩:১২
‘আমি ছিলাম স্যানিটারি মিস্ত্রি। যা আয় করতাম তা দিয়ে দিন ভালই কাটছিল। কিন্তু পাঁচ লাখ টাকার লোভে পড়ে ক্ষণিকের মধ্যেই হয়ে গেলাম খুনি। আর যাকে খুন করি, তিনি সম্পর্কে আমার ফুপা হন। তবে যাদের নির্দেশে হত্যা করেছিলাম তারা আমাকে একটি টাকাও দেয়নি। বরং সহায় সম্বল যা ছিল তা বিক্রি করে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। তবে যারা আমাকে লোভ দেখিয়েছিল, যাদের জন্য খুনি হয়েছি, তাদেরকেও আমি খুন করবো। যদি জেল থেকে কোনদিন ছাড়া পাই।’
পুলিশ ও আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা জানিয়েছেন পটুয়াখালী জেলার গলাচিপার শামীমুর রহমান শামীম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি দোলোয়ার হোসেন ফকির। নিহত শামীমের বাবার নাম আব্দুল খালেক প্যাদা। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। পেশায় ব্যবসায়ী। বড়ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু গলাচিপা পৌরসভার সাবেক কমিশনার।
বছর দেড়েক আগে পুলিশ রাজধানীর দক্ষিণ মনিপুর এলাকার একটি খালি প্লট থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শামীমের লাশ ( অজ্ঞাত পরিচয়) উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। ১০ দিন পর পরিচয় মেলে শামীমের।
থানা পুলিশ গত দেড় বছরেও আসামি গ্রেফতার ও হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এ অবস্থায় মামলাটির তদন্ত ন্যস্ত হয় মহানগর গোয়েন্দা দফতরে (ডিবি)। দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবির সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে। ডিবি পুলিশ রাজধানীর মাদারটেক থেকে গ্রেফতার করে দেলোয়ার হোসেন ফকিরকে। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দেলোয়ার হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা করে গত ১১ নভেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঐ সময় (ঘটনার সময়) দেলোয়ার রাজধানীর শ্যাওড়াপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে স্যানিটারি কাজ করতেন। গত বছরের ১৭ মে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে শামীম এলাকার দুই যুবককে নিয়ে তার কাছে আসে। তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় শামীমই। তাদের একজনের নাম কামাল। তবে তারা আসার আগেই শামীমের সঙ্গে ছিল তাদের এলাকার ছেলে বাদশা। শামীমের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে রাত হয়ে যায়। এক পর্যায় বাদশা ও কামাল তাকে (দেলোয়ারকে) ডেকে নিয়ে হত্যার কথা জানায়। এ জন্য তাকে পাঁচ লাখ টাকার লোভ দেখায়। এতে রাজি হয়ে যায় দোলোয়ার।
জবানবন্দিতে দেলোয়ার আরও জানান, গলায় ইলেক্ট্রিক তার দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার সময় সে বলেছিল, ‘তোরা আমাকে মাফ করে দে। আমাকে মারিস না, আমার স্ত্রী অসুস্থ।’ হত্যার পরে ভবনের এক কোণে চাদর দিয়ে লাশ ডেকে রাখা হয়। রাতেই সুবিধামত সময় লাশ বস্তায় ভরে রিকশায় করে ঘটনাস্থলে ফেলে দেয়া হয়েছিল।
নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু বলেন, আমার ব্যবসা দেখাশুনা করতো আমার ভাই। এ নিয়ে এলাকায় একটি গ্রুপের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। এছাড়া আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমাকে দুর্বল করার জন্যই চক্রটি শামীমকে পরিকল্পিত ভাবে ঢাকায় ডেকে নিয়ে হত্যা করে।’
তিনি বলেন, গত বছর ১৪ মে শামীম তার স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য পটুয়াখালী থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গিয়েছিল। ১৬ মে সেখান থেকে সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের সময় শামীমের স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা শিরিন আক্তার ছিল অন্তঃসত্ত্বা।
ডিবির সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে আর যারা জড়িত তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।