আশরাফ-ফখরুল বৈঠক! অস্বীকার ফখরুলের

নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা ও চলমান রাজনৈতিক সংকট নিয়ে অবশেষে বৈঠক করলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাত ৯টা ৪০ মিনিট থেকে তারা প্রায় ৪৫মিনিট বৈঠক করেন। রাজধানীর বনানীতে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের বাসায় এই বৈঠক হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে। রাত পৌনে ১১টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে যান মির্জা ফখরুল। সেখান থেকে ১২টা ৪ মিনিটে বের হয়ে ফখরুল সাংবাদিকদের কাছে এই ধরনের কোনো বৈঠকের কথা অস্বীকার করেন। এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন ‘আমরা জানি আপনারাসহ গোটা দেশবাসী একটি কার্যকর সংলাপের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে দুঃখের বিষয় যে, আপনাদের খুশি করতে পারছি না। আমাদের মধ্যে কোনো সংলাপ হয়নি।’ এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘চলমান আন্দোলন ও সংলাপ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যই এই ধরনের বৈঠকের কথা ছড়ানো হচ্ছে।’ সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা কোত্থেকে এই ধরনের খবর পেলেন তা তো আমিও বুঝছি না।’ জানা গেছে, সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে একটি বইয়ের প্রকাশনা উত্সবে বক্তব্য দিয়ে সেখান থেকে বনানীর উদ্দেশে রওনা হন মির্জা ফখরুল। পরে ৮টা ৪০ মিনিটে বনানীর ১৬ নম্বর রোডের এ ব্লকের নিজানের বাসায় যান তিনি। সাড়ে ৯টার দিকে একই বাসায় আসেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। বৈঠক শেষে প্রথমে বের হন সৈয়দ আশরাফ। তিনি বের হওয়ার কিছু সময় পরে মির্জা ফখরুল বের হয়ে সরাসরি বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি আলোচনার বিষয়ে খালেদা জিয়াকে অবহিত করেন। প্রসঙ্গত, যে সময়ে এই বৈঠকের কথা বলা হচ্ছে সেসময়ে মির্জা ফখরুলও খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের বাইরে ছিলেন, তার ফোনও ওই সময় বন্ধ পাওয়া যায়। সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে বৈঠকের কথা ফখরুল ‘বিভ্রান্তিকর’ বললেও তা সত্য বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি। তিনি রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আশরাফ সাহেবের সঙ্গে ফখরুল সাহেবের দেখা হয়েছে, তবে কোনো সংলাপ হয়নি।’ এর আগে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমিও টেলিভিশনে ও বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকদের কাছ থেকে বৈঠকের কথা শুনছি। তবে আমার কাছে অফিসিয়াল কোনো তথ্য নেই।’ বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, চলমান সংকট নিরসনে আলোচনার জন্য সৈয়দ আশরাফ ও মির্জা ফখরুল নিজ নিজ দলের প্রধানের কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওমরাহ হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার আগে সৈয়দ আশরাফকে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। এর আগে গত ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে সেনাকুঞ্জে মহাসচিব পর্যায়ে সংলাপে বসতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর ওই রাতেই ফখরুলকে ফোন দেন আশরাফ।