এইচএসসি পরীক্ষার পৌরনীতি ও ইংরেজি

সৃৃজনশীল অংশ :অধ্যায়-২৪ উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর জবাব দাও ঃ মাহফুজুর রহমান একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি আগামী নির্বাচনে কুমিল্লার একটি আসনের প্রার্থী। তিনি তাঁর শিক্ষা , বিচক্ষণতা, ও সহিষ্ণুতা, দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর সেবা করে যাচ্ছেন , এবার সংসদ সদস্য হতে চান। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অদুদ বিশ্বাস দীর্ঘদিন আমলা হিসেবে সরকারি চাকুরি করেছেন। অবসর জীবনে এখন অর্থকে ব্যবহার করে জনরায় নিজের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করছেন। উক্ত এলাকার সাধারণ ভোটারগণ মনে করেন সম্মোহনী নেতৃত্বের অভাবে দেশে এখন নেতৃত্বের সংকট চলছে। ফলে দেশে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ক. সম্মোহনী নেতৃত্ব কী ? উত্তর ঃ সম্মোহনী নেতৃত্ব হচ্ছে ঃ যেসব নেতা তাঁর কাজের মাধ্যমে জনসাধারণকে বিশেষভাবে সম্মোহিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম। খ. রাজনৈতিক দল ও উপদলের পার্থক্য লিখ। ক্রমিক নং রাজনৈতিক দল উপদল ১ রাজনৈতিক দল দেশের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত। উপদল একদল লোকের স্বার্থসিদ্ধর জন্য গঠিত ২ জনসেবা করাই এ দলের উদ্দেশ্য। এ দলের পশ্চাতে কোন মহত্ উদ্দেশ্য থাকে না। ৩ জাতীয় স্বার্থকে বড় করে দেখে। এটি জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। ৪ এটি বহু লোকের সমন্বয়ে গঠিত। এটি কিছু সংখ্যক লোক নিয়ে গঠিত। ৫ রাজনৈতিক দল অপেড়্গাকৃত স্থায়ী। উপদল যে কোন সময় বিলুপ্ত হতে পারে। গ. তোমার মতে উদ্দীপকের মাহফুজুর রহমানের মত একজন আদর্শ নেতার আর কী কী গুণ থাকা উচিত ? একজন আদর্শ নেতার যেসব গুণ থাকা আবশ্যক ঃ ১. শিক্ষাঃ এটি নেতার একটি বিশেষ গুণ। তিনি হবেন নিজস্ব বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার অধিকারী। শিক্ষিত নেতারা সহজে যে কোন সমস্যা মোকাবেলা করতে পারেন। ২. বিচক্ষণতাঃ বিচক্ষণতার অভাব থাকলে কেউ যোগ্য নেতা হতে পারেন না। মাহফুজুর রহমানের মধ্যে এ গূণটির সমন্বয় ঘটেছে। বিচক্ষণতা না থকেলে নেতা জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে না। ৩. সংযম ঃ সংযম নেতার একটি বড় গূণ। আত্মসংযম না থাকলে নেতা ও নেতৃত্ব ম্লান হয়ে যায়। তিনি নিজে সংযমী না হলে জনসাধারণকে সংযমী হতে শিক্ষা দিতে পরবেন না। বিশিষ্ট দার্শনিক ভলতেয়ার বলেছেন-“ আমি তোমার মতের সাথে একমত নাও হতে পারি কিন্তু তোমার মত প্রকাশের অধিকারের জন্য জীবন ও দিতে পারি।” ৪. ন্যায়নীতি ঃ এটি নেতৃত্বের একটি বিশেষ গুণ। ন্যায়নীতি না থাকলে এ নেতাকে কেউ বিশ্বাস করে না। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি থেকে নেতা মুক্ত না থাকলে একটি দেশের জনগণ কখনও উন্নতি লাভ করতে পারে না। ৫. বাগ্মিতা ঃ নেতাকে অবশ্যই বক্তৃতায় পারদর্শী হতে হবে। দেশের বিভিন্ন সমস্যা, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা. তার দলের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে হবে। সেজন্য জনগণকে আকৃষ্ট ও মন্ত্রমুগ্ধ করার কৌশল তাকে আয়ত্ব করতে হবে। ঘ. উদ্দীপকের অদুদ বিশ্বাসের মধ্যে আদর্শ নেতার গুণাবলী লক্ষ্য করা যায় কী ? বাংলাদেশের বর্তমান নেতৃত্বে কী কী সমস্যা রয়েছে বলে তুমি মনে কর ? উত্তর ঃ না। অদুদ বিশ্বাসের মতো নেতা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলকর নয়। বাংলাদেশের নেতৃত্বে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো লক্ষ্য করা যায় ঃ ১. দলমুখী স্বার্থপরতা ঃ সংকীর্ণ দলীয় মনোভাব বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রধান সমস্যা। কথায় কথায় ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়- একথাটি বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে উঠতে পারে না। ২. অর্থনৈতিক সমস্যা ঃ বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দারিদ্রতার কারণে এদশে তৃেত্বের ঘন ঘন পরিবর্তন হয়। জনসাধারণ সাধারণভাবে মনে করে এ সরকারের পরিবর্তন ঘটলে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। ৩. চারিত্রিক দুর্বলতা ঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দৃঢ়চেতা, সবল, ও নির্মল, চরিত্রের অধিকারী নয়। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যক্তিগত লোভ লালসা চরিতার্থ করার জন্য ব্যস্ত থাকে। ফলে সুযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠে না। ৪. ছাত্র নির্ভরশীল ঃ প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন রয়েছে। যে রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক সংগঠন যত বেশি সক্রিয় সে রাজনৈতিক দল তত বেশি মজবুত।ফলে দেশপ্রেমভিত্তিক নেতৃত্বের পরিবর্তে অদক্ষ পেশিশক্তি ভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে উঠছে। ৫. গণতান্ত্রিক মানসিকতার অভাব ঃ বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর পরই গণতন্ত্র কায়েম হলেও এদেশে এখনও গণতান্ত্রিক মনোভাবের অভাব রয়েছে। নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব, সহিষ্ণুতার অভাব, ও একে অপরকে অবমূল্যায়নের মনোভাব পরিলক্ষিত হয়। ৬. আন্তর্জাতিক নির্ভরশীলতা ঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ও নের্তবৃন্দের উপর বিভিন্ন দেশের প্রভাব বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয় । যদিও রাজনৈতিক দলগুলো বলে “ বিদেশে আমাদের কোন প্রভূ নেই, বন্ধু আছে।” কিন্তু কখনও কখনও মনে হয় বিদেশী প্রেসক্রিপসনে তারা পচািলিত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের স্বাধীন ও যোগ্য নেতৃত্বের একটি সমস্যা।