সিঙ্গাপুরে নির্মাণ শ্রমিক সংকট
মো. শাহাজাহান সাজু , সিঙ্গাপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৫
সিঙ্গাপুরে নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট বিরাজ করছে। ফলে বেশিরভাগ প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যে প্রকল্পগুলোতে কাজ চলছে সেগুলো শ্রমিকের অভাবে দীর্ঘায়িত হবে এবং উত্পাদন খরচও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানী কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি বাড়ি নির্মাণ, এমআরপি, থমসন লেনের মত অনেকগুলো বড় বড় প্রকল্প পাইপ লাইনে আছে। এমন অবস্থায় লোকবল সংকটের বিষয়টি নিয়ে নতুনভাবে চিন্তার উদ্রেক করছে। নির্মাণ খাতের ঠিকাদাররা শ্রমিক সংকট দূর করার চেষ্টা করছেন। ২০০৭ সালের শেষের দিকে নির্মাণ খাতে ওয়ার্ক পারমিটের চাহিদা ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত এর পরিমাণ ৩ লাখ ৬৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী শ্রমিক কোটা বাড়েনি।
সিঙ্গাপুর কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হো নক অঙ বলেন, প্রতি দশজন স্থানীয় শ্রমিকের বিপরীতে ৫ দশমিক ৫ জন বিদেশি শ্রমিক পাওয়ার বিধান রয়েছে। অল্প শ্রমিক দিয়ে বেশি কাজ করানোর ফলে প্রকল্পগুলো শেষ হতে বেশ দেরি হয়।
সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন মন্ত্রী খো বুন ওয়ান বলেন, হাউজিং বোর্ড সময়মত ফ্ল্যাটগুলো বরাদ্দ দিবে। চলতি বছর ১৩ হাজার ৬ শ’ এবং আগামী বছর ২৮ হাজার ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়া হবে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিষয়টি দীর্ঘায়িত হবে বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ পুংগলের প্রান্তে ম্যাটিলটাতে গত মাসে ১ হাজার ৩৩০ ইউনিট বিশিষ্ট ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয় এবং নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে ৪৭ মাস। কিন্তু ক্রেতারা সর্বোচ্চ ৩০ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি আছে। উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা দেশটিতে বিদেশি শ্রমিক না নেয়ার দাবিতে মিছিল করেন এবং গণমাধ্যমে বিবৃতি প্রদান করেন। এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠলে সরকার বিদেশি শ্রমিক নেয়া কমিয়ে দেয় এবং বিদেশি শ্রমিকদের ওপর দুই দফায় কর বৃদ্ধি করা হয়।
চলতি বছর সিঙ্গাপুরে প্রায় ১ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের চাহিদা ছিল। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে ৬১ হাজার ১০০টি পদ সৃষ্টি করা হয়। তন্মধ্যে সামাজিক ও প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে ৩৪ হাজার ১০০টি পদ সিঙ্গাপুরের স্থানীয় ও পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট এবং ২৭ হাজার পদ বিদেশি শ্রমিক দ্বারা পূরণ করা হয়।