১৪ বছর বয়সেই অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০১৩, ২০:১০
যে বয়সে বর্তমান যুগের ছেলেমেয়েরা ব্যস্ত ফেসবুক কিংবা বন্ধু-বান্ধবের সাথে অলস সময় পার করায়, বয়ঃসন্ধির সেই প্রথম বেলায় ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করলেন ভারতের চেন্নাই প্রদেশের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিন্ধুজা রাজামারন। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই চেন্নাইভিত্তিক একটি অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দায়িত্ব পালন করছেন সিন্ধুজা রাজামারন। সেপ্পান নামের এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সিন্ধুজার বাবা। আর এই অভিনব অর্জন এর মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে গিনেস বুক অফ ওযার্ল্ড রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে সিন্ধুজার নাম। টু-ডি অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ শুরু করা এ বিস্ময়বালিকা ইতোমধ্যে সারা ফেলে দিয়েছে গোটা ভারতসহ পৃথিবীর তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সংযুক্ত মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সারা ফেলে দিয়েছে।
অ্যানিমেশন এর জগত নিয়ে মেতে থাকা সিন্ধুজাকে অন্যদের থেকে একটু আলাদা করেছে তার পারিবারিক পরিমন্ডল। ছোট থেকেই তার প্রযুক্তি কিংবা একদম স্পষ্ট করে বললে অ্যানিমেশন এর ব্যাপারে আগ্রহ, যার মূল অনুপ্রেরণা আসে তার বাবার কাছ থেকে, যেহেতু তিনি নিজেও তামিল নাড়ুর প্রথম ডিজিটাল অনুকরণকারী হিসেবে পরিচিত। ফ্ল্যাশ, ফটোশপ, কোরেল পেইন্টার, বিভিন্ন ইফেক্টস— এরই মধ্যে এই সমস্ত সফটওয়্যারের উপর কাজ করা হয়ে গেছে সিন্ধুজার। ১৮-২৫ বছর বয়সী একদলকে নেতৃত্ব দেয়া সিন্ধুজা টু-ডি-তে স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি বানিয়েছেন বেশ কয়েকটি। এদের মধ্যে উঠে এসেছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, যক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়। সিন্ধুজা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে অভিনন্দন জানিয়েও একটি ক্লিপ তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতের মূল লক্ষ্য এখনকার সব কাজকে এগিয়ে নিয়ে আরও বড় পরিসরে অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ করা। পেরোতে চান থ্রি-ডি অ্যানিমেশন রাজ্যেরও।
সিন্ধুজা রাজামারন বলেন, ‘আমি অ্যানিমেশনের কাজটি পছন্দ করি এবং এটাই করে যেতে চাই। এর অংশ হিসেবে আমাকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।’ নিজের প্রিয় কাজ অ্যানিমেশনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের বড় বড় সিদ্ধান্তগুলোও নিচ্ছেন সিন্ধুজা। একজন পরিপূর্ণ সিইও’র মত সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত প্রতিদিনই অফিস করছেন সিন্ধুজা। কম বয়সী সিইও হিসেবে বিভিন্ন সেমিনারসহ নানা আয়োজনে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি ভারতের লক্ষণৌতে একটি সেমিনারে অংশ নিয়ে কিশোর-তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্যও দেন সিন্ধুজা। আর এই কিশোরী বয়স থেকে শুরু হওয়া অমূল্য সব অর্জনকে সঙ্গে নিয়েই নিজের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করতে আরও দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে চান সিন্ধুজা।