রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষে আহত ২০ :হোস্টেলে আগুন

আধিপত্য নিয়ে রাজশাহী কলেজে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে এই সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কলেজের প্রশাসন ভবনে ভাঙচুর এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে লাঞ্ছিত করেছে। এর আগে তারা ছাত্রদলের ৫ নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে জখম এবং কলেজের মুসলিম হোস্টেলের ‘সি’ ব্লকের ছাত্রদল নিয়ন্ত্রিত একটি কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। এনিয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কলেজ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমবর্ষে ভর্তির ফরম বিতরণকে কেন্দ করে রবিবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতা-কর্মী পরস্পর বিরোধী অবস্থান নেয়। এসময় লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ করে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম খান ববিনের সঙ্গে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌরভ হোসেনের প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ করে উভয় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় সংগঠনের অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়। এসময় পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রশাসনিক ভবনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে লাঞ্ছিত করে। এসময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী লোকনাথ স্কুলে অবস্থান নেয়। পরে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা মুসলিম হোস্টেলে ঢুকে ছাত্রদলের কর্মী জয়নাল আবেদীন উজ্জ্বল, ডানো, রাজিব, মিঠু ও রকিকে কুপিয়ে জখম করে। তাদের গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মরতুজা ফামিন হক জানান, ছাত্রলীগ সেক্রেটারি ববিনসহ সশস্ত্র ক্যাডাররা হোস্টেলে ঢুকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কুপিয়ে জখম এবং ‘সি’ ব্লকের ছাত্রদল কর্মী উজ্জ্বলের কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ পাহারায় ছাত্রলীগ কলেজ ক্যাম্পাসে মিছিল করে। ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের ১০/১২ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। তাদের রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম ববিন ছাছদল সভাপতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ছাত্রলীগ কর্মী শাকিলের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা সৌরভের কথা কাটাকাটির তুচ্ছ ঘটনার মীমাংসা করতে এগিয়ে গেলে ছাত্রদলের ক্যাডাররা আমার উপর হামলা চালায় এবং মারপিট করে। এখবর পেয়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলাকারী ছাত্রদলের ক্যাডারদের ধাওয়া দিয়ে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি। এদিকে উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবুর রহমান লাঞ্ছনার অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, প্রায় ৬ মাস আগে কলেজ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কর্তৃপক্ষ কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প সরিয়ে নিয়েছে। ক্যাম্পটি পুনঃস্থাপনের জন্য কয়েক দফা আরএমপি সদর দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ক্যাম্পাসে পুলিশ ক্যাম্প থাকলে সংঘর্ষের ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।