শিমের খনি মুলাডুলী
স্বপন কুমার কুন্ডু, ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০১৩, ২২:২৭
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহত্ সবজি পাইকারি হাট ঈশ্বরদীর মুলাডুলী ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। এখন প্রতিদিন এই আড়তে বাজারজাত ও বিক্রি হচ্ছে দুই কোটি টাকার শিম।
মৌসুমের প্রথমদিকে শিম চড়াদামে বিক্রি হলেও এখন দাম কমতে শুরু করায় দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে আগত ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে মুলাডুলী জনারণ্যে পরিণত হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে শিম কেনা-কেচা। রবিবার সরেজমিন মুলাডুলী পাইকারি হাটে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে শিমের স্তূপ। স্থান সংকুলান না হওয়ায় আশেপাশে এমনকি মহাসড়কের পাশে শিমের বস্তা স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আড়তদাররা জানান, এই হাট হতে এখন প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক শিম বোঝাই হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যাচ্ছে। প্রথমদিকে ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও রবিবার গড়ে প্রতি মণ শিম ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। প্রতি ট্রাক শিম চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি শিম মুলাডুলী হাটে বিক্রয় হচ্ছে ।
শিমচাষ এলাকার মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। শুধু মুলাডুলীতেই শত শত মানুষ রয়েছে, যারা শিমচাষ করে লাখপতি হয়েছেন। ঈশ্বরদীর মুলাডুলী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী আটঘরিয়া, বড়াইগ্রাম ও লালপুরের মানুষ শিমচাষের সাথে সরাসরি জড়িত। মুলাডুলী ইউপি’র চেয়ারম্যান সেলিম মালিথা জানান, প্রায় ৩০ হাজার মানুষের কম-বেশি প্রায় সবাই শিম আবাদ, শিমের ব্যবসা, শিমের জমিতে কাজের সাথে জড়িত। এখানকার নারী-পুরুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী এমনকি ছোট শিশুরাও এসময় পড়া-লেখার ফাঁকে শিমের মাঠে কাজ করে বাড়তি টাকা আয় করে। তিনি জানান, শিম আবাদের এই ব্যাপকতা এলাকার মানুষদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খুরশীদ আলম জানান, মুলাডুলীতে চলতি মৌসুমে প্রায় ১,৪০৫ হেক্টর জমিতে শিম আবাদ হয়েছে, এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় এমনকি সড়ক-মহাসড়কের দু’ধারেও শিম আবাদ হয়েছে।
মুলাডুলি আড়তের আড়তদার সমিতির কোষাধ্যক্ষ ও সফল শিম চাষি আমিনুর রহমান বাবু ওরফে শিম বাবু জানান, শিম কেনা-বেচায় মুলাডুলী সবজি হাটে প্রতিদিন ১২শ’ শ্রমিক জীবিকা নির্বাহ করছে।