পৃথিবী রক্ষায় আইন মেনে চলবে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো

পৃথিবী রক্ষায় একটি আইন মেনে চলবে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। উন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে দেবে প্রয়োজনীয় অর্থ। তবে এ বিষয়ে এখনো চুক্তি করা হয়নি। ২০১৫ সালে প্যারিসে সকল দেশ এই চুক্তি করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পৃথিবীর উষ্ণায়ন কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নত বা ধনী দেশগুলো। শনিবার শেষ হওয়া বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বিশ্ব নেতারা। গত ১১ নভেম্বর পোল্যান্ডের ওয়ারশতে ১৯৫টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এই সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের অন্যতম প্রতিনিধি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আইনুন নিশাত বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ভারত ও চীনের মত দেশগুলোকেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে। সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ না করলে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। সম্মেলনে অংশ নেয়া প্রতিনিধিরা জানান, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অব্যাহত চাপের কারণে উন্নত দেশগুলো এই প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়েছে। ধনী দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, কার্বন নিঃসরণ কমাতে আরো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য দেয়া হবে সহায়তা। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে পরবর্তীকালে খাপ খাওয়াতে অর্থ সহায়তা দেয়ার বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ মতবিরোধের পর এই সমঝোতা হলো। তবে পরিবেশবাদিরা এই সিদ্ধান্তে খুশি নন। আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদিরা বলছেন, এর মধ্যে আরো অনেক শর্ত আছে যা বাস্তবায়নের পথে বাধা হবে। ধনী দেশগুলো সব সময় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনও সেই বাধা দূর হয়নি। পরিকল্পনাগুলোর অর্থায়ন কিভাবে হবে, গরিব বা উন্নয়নশীল দেশের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা কি রকম হবে—এ বিষয়ক যাবতীয় কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে ২০১৫ সালের আগেই। যদি এগুলো সমাধান করা না যায় তাহলে ২০১৫ এর যে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে, তা রক্ষা করা যাবে না। গত কয়েকদিন ধনী দেশগুলো বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য শুধু ধনী দেশগুলোই দায়ী নয়। মাটির নিচের জ্বালানি যারাই ব্যবহার করছে তারাই জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাব রাখছে। ফলে সকলকে মিলে এক সিদ্ধান্তে আসতে হবে। এক্ষেত্রে উন্নয়শীল দেশ হিসেবে চীন ও ভারততে আগে এগিয়ে আসতে হবে। আর উন্নয়নশীল দেশগুলো বলছে, উন্নত বা ধনী দেশগুলোর কারণে সমুদ্র উপকূলীয় দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা দিতে হবে। ইইউ এর ক্লাইমেট কমিশনার কনি হেডেগার্ড মনে করছেন, এসব সম্পন্ন করতে শুধু উন্নত দেশগুলোই নয়, পৃথিবীর সকল দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে। জলবায়ু সমস্যা নিরসনের জন্য সকলের অবদান প্রয়োজন। ওয়ারশ সম্মেলন শেষে প্রত্যেকেই নিজের দেশে ফেরত গিয়ে কর্মপরিকল্পনা করতে হবে এবং উদ্যোগী হয়ে বিশ্ববাসীকে জানাতে হবে যে, কে কি অবদান রাখতে প্রস্তুত। জলবায়ু সমস্যা সমাধানে চাই সমন্বিত উদ্যোগ আর সেই উদ্যোগ নেবার জন্যই সকল দেশ ওয়ারশতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।