সাভার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে পোশাক শ্রমিকদের তাণ্ডব

দুই নারী শ্রমিক আটকে রাখার গুজবে সাভার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে পার্শ্ববর্তী একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তারা সেখানে একটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ১২ জন পুলিশ সদস্য, ৩ জন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ আহত হয়েছে অর্ধশত। এ ঘটনায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ২ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। জানা গেছে, গতকাল রবিবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সাভার ফায়ার সার্ভিসের সামনে গাড়ি থামিয়ে তা থেকে নামছিল পার্শ্ববর্তী আল-মুসলিম গ্রুপের পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে আল-মুসলিম কারখানায় গুজব রটে যে, ফায়ার সার্ভিস অফিসে কারখানার দুই নারী পোশাক শ্রমিককে আটক করে রাখা হয়েছে। এরপর কারখানা থেকে কয়েকশ’ শ্রমিক বের হয়ে ফায়ার সার্ভিস অফিসে হামলা ও এর কর্মীদের মারধর শুরু করে। শ্রমিকরা অফিসের জানালার কাঁচ, আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে ভাংচুর করে। সাভার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খান খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকশ’ শ্রমিক আমাদের স্টেশন অফিস ও আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। তারা একটি মোটর সাইকেলেও আগুন লাগিয়ে দেয়। শ্রমিকরা আমাদের কোয়ার্টারে গিয়েও ভাংচুরের পাশাপাশি লুটপাট চালায়।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ শ্রমিকদের নিবৃত্ত করতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। শ্রমিকরা পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। সংঘর্ষ ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছালে র্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির সীমা থাকে না। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সকাল ১০ টার পর পুলিশের সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আল-মুসলিম গ্রুপের এজিএম ফরহাদ হোসেন বলেন, গুজবেই শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। শত চেষ্টা করেও শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় আল-মুসলিম গ্রুপ কর্তৃপক্ষ গতকাল কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। গতকাল সন্ধ্যা সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হামলা ভাংচুরের ঘটনায় থানায় কোন পক্ষ থেকেই মামলা হয়নি।