গফরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত দুইশ’

গতকাল রবিবার বিকালে বিএনপি কর্মীদের সাথে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সংঘর্ষে গফরগাঁওয়ে পৌর শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুই ঘন্টার সংঘর্ষে বিএনপি’র তিন নেতাকর্মীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। রেলওয়ে স্টেশন, অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা বিএনপির ২টি কার্যালয়, পৌরশাখা ছাত্রলীগ কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। রেললাইন ও রেল স্টেশন এলাকায় সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে আড়াই ঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সশস্ত্র নেতাকর্মীরা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কমপক্ষে আরও শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। এতে পুলিশের ৩ সদস্য, ট্রেনযাত্রীসহ উভয় পক্ষে ২ শতাধিক কর্মী সমর্থক আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌরশহরের চামড়া গুদাম এলাকা দিয়ে বিএনপি’র একটি সশস্ত্র মিছিল উপজেলা সদরে বিএনপি’র বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে যাওয়ার সময় উপজেলা চেয়ারম্যান সমর্থিত আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে বিএনপির সশস্ত্র কর্মীরা গুলি করতে করতে গফরগাঁও রেলস্টেশন হয়ে বাজারে প্রবেশ করতে চাইলে আওয়ামী লীগ সশস্ত্র নেতাকর্মীদের সাথে সশস্ত্র বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে এ সংঘর্ষ পৌরশহরের চামড়া গুদাম, শাহ মিসকিন রোড়, রেলস্টেশন এলাকা, শিবগঞ্জ রোড়, পাটমহল মোড়, কাচারি রোড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষ বৃষ্টির মতো রেললাইনের পাথর নিক্ষেপ করে। পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের সময় বিএনপি’র সমর্থকরা পৌরশহরের শাহমিসকিন রোড় ও রেলস্টেশন এলাকায় এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকরা শিবগঞ্জ রোড় ও পাটমহল এলাকায় কমপক্ষে ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা পৌরশহরের শিবগঞ্জ রোড় এলাকায় পৌরশাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সোহেলের তুলার দোকান, বিএনপি সমর্থক হিরনের মনিহারি ও কাজল মিয়ার লন্ডি দোকান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এসময় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা শিবগঞ্জ রোড ও পাটমহল এলাকায় উপজেলা বিএনপি’র ২টি কার্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ, মঞ্চ ভাংচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেয় এবং বিএনপির সমর্থকরা স্টেশন রোড এলাকায় পৌরশাখা ছাত্রলীগের কার্যালয় এবং রেলস্টেশন ভাংচুর করে। সশস্ত্র বিএনপি নেতাকর্মীরা আলতাফ গোলন্দাজ মার্কেটে হামলা করতে গেলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তা প্রতিহত করে। আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীরা উপজেলা বিএনপি সভাপতি এবি সিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে হামলা করতে গেলে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। সংঘর্ষে ৩ পুলিশ কনস্টেবল রুবেল, ট্রেনযাত্রী জয়নাল, হামিদ, আওয়ামী লীগ নেতা মোল্লা শহীদসহ আহত হয়। পৌরশাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন জানান, পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে বৃষ্টির মত রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে শতাধিক নেতাকার্মী আহত হয়। গুরুতর আহত পুলিশ কনস্টেবল রুবেল মিয়া, যুবদল নেতা আনসারুল, বিএনপি নেতা জয়নালকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রেলস্টেশন ও শিবগঞ্জ রোড রেলক্রসিং এলাকায় সংঘর্ষের কারণে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেনকে গফরগাঁও স্টেশন থেকে পিছিয়ে নিয়ে মশাখালী স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তারাকান্দি থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেনকে আউলিয়া নগর স্টেশনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ লাইনে আড়াই ঘন্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এঘটনা সম্পর্কে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আমির হোসেন বলেন, বিক্ষোভ মিছিলের অজুহাতে বিএনপি’র অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে গফরগাঁও বাজারে প্রবেশ করে। উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে। উপজেলা সদরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।