শ্রীনগরে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির নেপথ্যে....
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৪, ২১:২৯
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা নির্বাচনে তিনটি পদেই আওয়ামী লীগের এতোটা ভরাডুবি হবে বলে আশা করেনি দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। তিনটি পদেই আওয়ামী লীগ যোগ্য প্রার্থীদের মনোনীত করার পরও নির্বাচনের পর তাদের পরাজয়ের পেছনের কারণগুলো মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছেন তারা। দলীয় কার্যালয়, চায়ের দোকানসহ নেতা-কর্মীদের আড্ডাস্থলে চলছে জোর আলোচনা। আলোচনায় উঠে আসছে কোন্দল, অতিউত্সাহী কিছু নেতা-কর্মীর অশোভন আচরণ, জোর খাটিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা, প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার দ্বিমুখী নীতি, কয়েকটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বেচ্ছাচারিতা, ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ভুঁইফোড় নেতাদের অধিক মূল্যায়ন, নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর অংশগ্রহণসহ নানা রকম বিষয়।
নির্বাচনের আগে বিদ্রোহী প্রার্থীকে মারধর ও তার সাথে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনায় দল হিসাবে আওয়ামী লীগের উপর এর প্রভাব পড়ে। উপজেলা আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে প্রভাবশালী এক নেতা আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দেন বলে তৃণমূল নেতাদের অনেকে অভিযোগ করেন। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসাবে পরিচিত হলেও হাসাড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি আহসান হাবীব উপজেলা নির্বাচনের আগে সামান্য বিষয়ে অনেকের গায়ে হাত তুলেন। ঐ ইউনিয়নের এক আওয়ামী লীগ কর্মীর অভিযোগ, আহসান হাবীবের হাত থেকে রেহাই পাননি আওয়ামী লীগ কর্মী ও সংখ্যালঘু সদস্যরা। এর প্রভাব পড়ে উপজেলা নির্বাচনে। সংখ্যালঘুদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ভোট না দিয়ে এর প্রতিবাদ জানান। কুকুটিয়া ইউনিয়নেও সাধারণ ভোটারকে মারধর ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিপক্ষ প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা সাধারণ ভোটারদের উপর প্রভাব ফেলে।
রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের চিত্রও অনেকটা হাসাড়া ইউনিয়নের মতো। নির্বাচনের আগে তিন দোকান এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থী জাকির হোসেনের উপর হামলা, একই এলাকায় বিএনপি নেতা একুল খানকে মারধরের ঘটনায় ভোটাররা আওয়ামী লীগ নেতাদের উপর আস্থা হারান।
বালাশুর এলাকায় এক যুবলীগ নেতার ভূমিদস্যুতা, একটি সংগঠনের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি দীঘি দখল ও এর আশপাশের বৃক্ষ নিধনের প্রভাব পড়ে নির্বাচনের উপর।
এছাড়াও তন্তর, আটপাড়া, বাঘরা, বীরতারা, পাটাভোগ ইউনিয়নে ধৈর্যশীল ও বিচক্ষণ নেতা-কর্মীর অভাব এবং অতিউত্সাহী নেতা-কর্মীদের সাধারণ ভোটারের আস্থার বিপরীতমুখী কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিপদে ফেলে। তাছাড়া শ্যামসিদ্ধি, বাড়ৈখালী, রাঢ়ীখাল, শ্রীনগর ইউনিয়নে আড়িয়ল বিলের আন্দোলনের রেশ আরো কয়েকটি নির্বাচন পর্যন্ত থাকতে পারে। ষোলঘর ইউনিয়নের মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও সংখ্যালঘুদের মূর্তি ভাংচুরের ঘটনায় জোরালো পদক্ষেপ না নেয়ায় ওই ইউনিয়নের ফলাফলে প্রভাব পড়ে। এছাড়াও দলে দুই-একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিদস্যুর অন্তর্ভুক্তি আওয়ামী লীগের প্রতি ভোটারদের আস্থা হারানোর বিষয়টি ত্বরান্বিত করে বলে স্থানীয় বিশ্লেষকরা মত দেন।