ঢাকার সাভারের কলমা এলাকা থেকে আসা এগারো বছর বয়সী নূপুরের পুড়ে যাওয়া হাতে পচন ধরেছে। এর মধ্যেই একবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। আরো একবার হবে। তার এই দুর্ভোগের কারণ বাড়ির লাগোয়া বৈদ্যুতিক তার। বলছিলেন তার খালা ইয়াসমিন বেগম, ‘ও গোসল করে ছাদে গিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে গল্প করছিল। হঠাত্ হাত গিয়ে লাগে বিদ্যুতের তারে। হাতটা সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে যায়। আগুন ছিটে এসে পড়ে গায়ে। ছাদ থেকে মাত্র এক হাত দূরে হবে বিদ্যুতের তার।’ কাছেই একটি বিছানায় শুয়ে আছে চাঁদপুরের প্রফেসর পাড়া থেকে আসা ১০ বছর বয়সী দীনা। সেও বুঝতে পারেনি বাড়ির বারান্দার কাছে থাকা বিদ্যুতের তার কতটা কষ্ট ডেকে আনবে।
বিপদ বলেকয়ে আসে না সত্যি—কিন্তু বিপদ আসতে পারে এমন লক্ষণ যদি দেখা যায়, তবে আগেই তার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবাসিক ভবনের বিদ্যুতের লাইন খাম্বা থেকে টানা হয়। সমপ্রতি দেখা গেছে, অধিকাংশ ভবনের বৈদ্যুতিক তারের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এটা আশপাশের বাড়ি, রাস্তা ও ভবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক ভবনের তার দুর্বল হওয়ার কারণে সামান্য বাতাস ও বৃষ্টিতে ছিঁড়ে পড়ে বিপদ ডেকে আনতে পারে। বৈদ্যুতিক তার তিন বছর পর পর পরিবর্তন না করলে এমন বিপদ হতে পারে। আমরা প্রায়ই বিদ্যুত্জনিত কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে দেখি। এজন্য আবাসিক ভবনের ওপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি।
বিবিসি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের তথ্যমতে তাদের কাছে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীদের ২৮ শতাংশ বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় পুড়ে যাওয়া রোগী। তাই আমরা যদি সচেতন না হই, তাহলে আমাদেরই বিপদ। আমাদের সকলের উচিত সচেতন হওয়া এবং আইনত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
হামিদুর রশিদ জামিল, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়