চীনে ছুরি সন্ত্রাসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৭
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইউনান প্রদেশের কুনমিং রেলস্টেশনে ছুরি সন্ত্রাসে নিহত হয়েছে ৩৩ জন। কালো পোশাক পরিহিত সন্ত্রাসীরা স্টেশনে অবস্থান করা লোকদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। আহত হয়েছে প্রায় দেড়শত। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, যারা দৌঁড়াতে পারেনি তারা বাঁচতেও পারেনি। দেশটির সরকার এই হামলার জন্য জিনজিয়াংয়ের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দায়ী করেছে। হামলাকারীদের মধ্যে সন্দেহভাজন এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে পাগলের মতো কোপাতে থাকে সন্ত্রাসীরা। তাদের হামলার ধরণ দেখে মনে হয়েছে মাথা কাটাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। পুলিশ জানিয়েছে, এতে ২৯ জন নিহত হয়েছে। বাকি চারজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। সন্দেহভাজন হিসেবে এক নারীকে আহত অবস্থায় আটক করেছে পুলিশ। তাকে হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৫ জনকে খুঁজছে পুলিশ।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুরো স্টেশন জুড়ে ছিল কেবল রক্ত আর রক্ত। সরকার এই হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত, সংগঠিত এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বলে আখ্যায়িত করেছে। কুনমিং শহরের কর্তৃপক্ষ হামলার স্থান এবং ধরন দেখে জানিয়েছে, জিনজিয়াং প্রদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এই হামলা করেছে। তবে তারা কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি এবং বিস্তারিত কিছু জানায়নি। জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিম সমপ্রদায় দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের অভিযোগ, তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো হয়। গত অক্টোবরে এক গাড়ি বোমা হামলায় ৫ জন নিহত হয়।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, স্টেশনের টিকেট কাউন্টার ও সামনের খোলা জায়গায় যাত্রীদের ওপর চড়াও হয় হামলাকারীরা। ১০ জন হামলাকারী এর সঙ্গে জড়িত। নির্বিচারে তারা যাত্রীদের ওপর তলোয়ারের মতো বড় ছুরি দিয়ে কোঁপাতে থাকে। হামলায় আহত ইয়াং হাইফাই নামের একজন জানিয়েছেন, তিনি টিকিট কাউন্টারে গিয়ে টিকিট কাটতে ছিলাম। এমন সময় হঠাত্ করে পেছন থেকে আমাকে ছুরিকাঘাত করে। আমার বুকে এবং পিঠে আঘাত লাগে। আমি সঙ্গে সঙ্গে দৌঁড় দিই। আমি লক্ষ্য করে দেখলাম অন্যদের ওপরও এইভাবে হামলা করা হয়েছে। যারা দৌঁড়াতে পারেনি তারা বাঁচতেও পারেনি বলে জানান হাইফাই। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং এই হামলার চরম নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দায়ীদের দ্রুত খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনায় বাংলাদেশি কোনো নাগরিকের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।