জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
এলাকাবাসীর বাধায় হল উদ্ধার করতে পারেনি শিক্ষার্থীরা
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৯
স্থানীয়দের বাধায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া শহীদ আজমল হোসেন হল উদ্ধার করতে পারেননি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা হলটি দখলের জন্য (পাটুয়াটুলীর ক্রাউন মার্কেট) ভবনের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যানার টানালেও এলাকাবাসী তা পুড়িয়ে ফেলে পাল্টা ব্যানার-ফেস্টুন টানায়। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় হলের বিরোধিতা করে তারা অবস্থান কর্মসূচিও পালন করে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে বাধা প্রদানকারীদের চিহ্নিত করে আইনিভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে ‘হল পুনরুদ্ধার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’র আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম বলেছেন, অবৈধ দখলদারদের দোসররা শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মিছিলের ঘোষণা দেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জবি সংবাদদাতা জানান, বেদখল হওয়া হল উদ্ধার ও নতুন হল নির্মাণের দাবিতে গতকাল সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা আজমল হোসেন হল দখলের জন্য যাত্রা করেন। সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মিছিলটি বাংলাবাজার মোড়ে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়। এসময় শিক্ষার্থী-পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান নিলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। পরে আলোচনার মাধ্যমে দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ক্রাউন মার্কেট ভবনে ব্যানার টানাতে যায়। এসময় স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা পাশের একটি ভবনে ব্যানার টানায়। এদিকে শিক্ষার্থীরা ব্যানার টানিয়ে চলে আসলে স্থানীয়রা ব্যানারটি পুড়িয়ে ফেলে। তারা হলের বিরোধিতা করে পাল্টা ব্যানার-ফেস্টুন টানায়।
উল্লেখ্য, পাটুয়াটুলীর রমাকান্ত নন্দী লেনের আজমল হোসেন হলটি দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে রয়েছে। বর্তমানে এটি ক্রাউন মার্কেট হিসাবে পরিচিত।
শিক্ষকদের বিক্ষোভ: এদিকে ৮ দফা দাবিতে গতকালও কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা মিছিল নিয়ে সকালে রায়সাহেব বাজার মোড় অবরোধ করেন এবং পরে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে ফিরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এসময় শিক্ষক সমিতির সভাপতি সরকার আলী আক্কাস বলেন, ৮ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।