স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ৯ বিশিষ্ট জন ও ১ প্রতিষ্ঠান
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০১৪, ২৩:১৯
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নয় জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকে চলতি বছরের স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এদের মধ্যে সাত জনই মরণোত্তর এ পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন। গতকাল রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেছে।
মনোনীত বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. আবু ওসমান চৌধুরী ও শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। মরণোত্তর যারা এ পুরস্কার পাচ্ছেন তারা হলেন সাবেক গণপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল খায়ের, মুন্সি কবির উদ্দিন আহমেদ, শহীদ কাজী আজিজুল ইসলাম, ড. খসরুজ্জামান চৌধুরী, শহীদ এসবিএম মিজানুর রহমান, ডা. মোহাম্মদ হারিছ আলী ও মো. কামরুজ্জামান।
স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদক। ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস সামনে রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এ পদক দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পদক বিতরণ করবেন। এ পুরস্কারের জন্য মনোনীতরা একটি করে সোনার পদক এবং একটি সম্মাননাসূচক প্রত্যয়নপত্র পাবেন। এর সঙ্গে নগদ পুরস্কার হিসাবে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে দেয়া হবে।
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মোহাম্মদ আবুল খায়ের এ পুরস্কার পাচ্ছেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাষণ রেকর্ড ও সংরক্ষণ করেছিলেন। মুন্সি কবির উদ্দিন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সময় কুমিল্লার পুলিশ সুপারের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সেনানিবাসের ব্রিগেড কমান্ডারের হাতে জেলা পুলিশের অস্ত্রভাণ্ডারের চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। পরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দী অবস্থায় শহীদ হন তিনি।
একাত্তরে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী শহীদ কাজী আজিজুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় সহায়তা দিয়ে গেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে ৮ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আবু ওসমান চৌধুরী ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ অধীনস্ত সেনাদল নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের তখনকার মহকুমা প্রশাসক খসরুজ্জামান চৌধুরী। সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়া মিজানুর রহমান ১৯৭১ সালের ৫ মে পিরোজপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় শহীদ হন। আর মুক্তিযুদ্ধে তরুণদের সংগঠিত করতে ভূমিকা রাখা মোহাম্মদ হারিছ আলী মুক্তিযুদ্ধের ৫ নম্বর সেক্টরের অধীন জেলা সাব-সেক্টরের রেজিমেন্টাল মেডিক্যাল অফিসারের দায়িত্বও পালন করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিভাগের এমএনএ ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান।
সংস্কৃতিতে এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনেই সক্রিয় ছিলেন। অন্যদিকে কৃষি-গবেষণা ও উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবার ‘গবেষণা ও প্রশিক্ষণ’ ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছে।