গল্প নয় সত্যি

প্রতারকের নামে ওয়েবসাইট!

চোরের সাথে রাগ করে মাটিতে ভাত খাওয়ার একটি প্রবাদ বহুদিন থেকেই চালু আছে বাংলায়। তবে তাই বলে চোর কিংবা প্রতারকের সাথে রাগ করে কেউ যে তার নামে একখানা ওয়েবসাইট খুলে বসতে পারে এটা নতুন একখানা ঘটনাই বটে। আর অবাক হবার মতো এই কান্ডখানাই সম্প্রতি ঘটিয়েছেন লিন্ডা কর্টি নামের এক নারী। নিজের বাড়িতে কিছু আলোকসজ্জা করার জন্য আজ থেকে বেশ কিছুদিন আগে তিনি দায়িত্ব দিয়েছিলেন জেরি ব্রিডলোভ নামের এক মিস্ত্রীকে। এর আগেও ব্রিডলোভকে দিয়ে একবার ঘরের চমত্কার কিছু কাজ করিয়ে নিয়েছিলেন কর্টি। আর তাই ব্রিডলোভকে অবিশ্বাস করার কোনো কারণও তার দিক থেকে ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত কর্টির এই বিশ্বাসকেই প্রতারণার পুঁজি হিসেবে বেছে নেন ব্রিডলোভ। আমেরিকার টেনেসি অঙ্গরাজ্যের এই মিস্ত্রী কর্টির কাছ থেকে কিছু লাইট কেনা বাবদ প্রায় ৩,০৫৫ ডলারের একটি বিল জমা দেন এবং এর বিপরীতে মোট ৩০০০ ডলার বুঝেও নেন। জানান দু’এক দিনের মধ্যেই ‘গ্রাহামস্ লাইটিং’ নামের একটি দোকান থেকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে প্রয়োজনীয় লাইটগুলো। আর লাইট পৌঁছবার পরেই তিনি পুরোদমে শুরু করবেন তার কাজ। কিন্তু এরপর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও লাইট কিংবা মিস্ত্রী কারোই দেখা মেলে না। ফোনের পর ফোন দিয়েও সন্ধান মেলে না ব্রিডলোভের। অগত্যা বাধ্য হয়েই, নিজের কেনা লাইটগুলো বুঝে নিতে সরাসরি ‘গ্রাহামস্ লাইটিং’-এর সাথে যোগাযোগ করেন তিনি। জানতে পারেন, এই দোকান থেকে এ ধরনের কোনো সওদাই করেননি ব্রিডলোভ। বরং দোকানের একটি লেটারহেড প্যাডে সম্পূর্ণ জাল একটা বিল বানিয়ে সেটাই তিনি গছিয়ে দিয়েছেন কর্টিকে। এ অবস্থায় নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় বলে মনে হলেও দমে যাননি কর্টি। বরং তার মতো আর কেউ যেন দেশের কোনো প্রান্তে ব্রিডলোভের এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন সেজন্য রীতিমতো একটি ওয়েবসাইট খুলে বসেন তিনি। আর www.jerrybreedlove.com নামের এই ওয়েবসাইটটির মাধ্যমেই আমেরিকা ও গোটা বিশ্বের ওয়েব ব্যবহারকারীদের কাছে জেরি ব্রিডলোভকে কোনো ধরনের কাজ না দেওয়ার অনুরোধ জানান কর্টি।