বিশ্ববিদ্যালয় করা নিয়ে উত্তপ্ত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৪, ২২:৪৯
আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থানকারীদের মিছিল, সমাবেশ চলতে থাকায় হাসপাতাল চত্বরে চরম আতংক বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন চিকিত্সকরা। অন্যদিকে নার্সসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা এর বিপক্ষে। নার্স, কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ায় হাসপাতালের চিকিত্সা সেবা ভেঙ্গে পড়েছে।
চিকিত্সকরা দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হলে দীর্ঘদিন মেডিক্যাল কলেজকে জিম্মি করে রাখা সিন্ডিকেটের আধিপত্য ভেঙ্গে পড়বে। কিছু বহিরাগত ও প্রাইভেট ক্লিনিক ব্যবসায়ীরা কর্মচারীদের এই আন্দোলনের পেছনে ইন্ধন যোগাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গত কয়েকদিন ধরে নার্স, কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণের বিরুদ্ধে মিছিল-সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে। প্রতিদিন তারা নতুন নতুন কর্মসূচি দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে আতংক বিরাজ করছে হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে। কর্মবিরতির কারণে চিকিত্সাধীন রোগীরা কোন সেবা পাচ্ছেন না। চিকিত্সকরা রোগী দেখলেও ওষুধ ও সেবা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। হাসপাতালে ঝাড়ু দেয়া, টয়লেট পরিষ্কারসহ কোন কাজই হচ্ছে না। টয়লেটগুলো দুর্গন্ধের কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রোগীদের বেডের চাদর বদলানো হচ্ছে না। এমনকি খাবার বিতরণ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে রোগীরা অভিযোগ করেছেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৃহত্তম সরকারি চিকিত্সা কেন্দ্র চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ১০০১ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিত্সাধীন থাকে। বিভিন্ন স্থান থেকে রেফার করা রোগীরা এই হাসপাতালে উন্নত চিকিত্সার জন্য আসেন।
গতকাল সোমবার নার্স ও কর্মচারীরা সকাল ১০টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। মিছিল হাসপাতাল এলাকা প্রদক্ষিণ করে, পরে সমাবেশ হয়। সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের সভানেত্রী রোমেনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হলে রোগীদের চিকিত্সা নিতে সিট ভাড়া, ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সকল ধরনের খরচ বৃদ্ধি পাবে। এটি একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে পরিণত হবে।
কর্মচারীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ইত্তেফাককে বলেন, মেডিক্যাল কলেজের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হলে সবকিছু নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে চলে আসবে। হাসপাতালে আলাদা প্রশাসন থাকবে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাবে। চিকিত্সা সেবার মান উন্নত হবে। কিন্তু কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মচারী ও প্রাইভেট ক্লিনিক ব্যবসায়ীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীতকরণের বিরুদ্ধে ইন্ধন যোগাচ্ছে। কারণ এতে হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের সমস্যা হবে।
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল গনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা কর্মসূচি বন্ধ রাখবেন বলে আমাকে কথা দিয়েছেন। ভুল বুঝাবুঝির কারণে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। সচিব বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় হাসপাতাল আসবে না। কলেজের কর্মচারীরা যদি চাকরি করতে না চান তাদের হাসপাতালের শূন্যপদে পদায়ন করা হবে। ফলে নার্স, কর্মচারীদের চাকরির কোন সমস্যা হবে না।