চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প পিছিয়ে পড়েছে
সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৪, ২২:৫২
পিছিয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রান্স-এশিয়ান রেল লাইন প্রকল্প। সরকারের পালাবদল এবং প্রকল্পটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নীরবতায় গত ২০০১ সালের প্রথম সমীক্ষার পর অতিবাহিত হয়ে গেছে এক যুগ। ২০১২ সাল থেকে পুনরায় সমীক্ষা শুরু হয়েছে। এত দেশি-বিদেশি পরামর্শক সংস্থার সমন্বয়ে যৌথ সমীক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশের পক্ষের একজন কর্মকর্তা জানান, আগামী ডিসেম্বরে সরকারের কাছে জমা দেয়া হবে সংশোধিত যৌথ সমীক্ষা রিপোর্ট। এই সমীক্ষা রিপোর্টটি ইতিবাচক হিসাবে বিবেচিত হলে আগামী ২০১৫ সাল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার এই প্রকল্পটি গ্রহণ করেছিলো। ঐ সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে ক্যানারেল নামের একটি বিদেশি পরামর্শক সংস্থা ২০০১ সালে প্রকল্পটির উপর সমীক্ষা চালিয়েছিলো। এরপর সরকারের তিন দফা পালাবদলের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় একযুগ প্রকল্পটির কাজ স্থবির হয়ে পড়ে। ২০১২ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে এ বছর থেকে পুনরায় যৌথ সমীক্ষা শুরু হয়।
টঙ্গী-ভৈরববাজার ডাবল রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের সমীক্ষা গ্রুপের বাংলাদেশ পক্ষের কর্মকর্তা সাগরকৃষ্ণ চক্রবর্তী ইত্তেফাককে জানান, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় বাংলাদেশ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশি-বিদেশি সংস্থার উদ্যোগে ২০১২ সালের অক্টোবর মাস থেকে রিভাইজ্ড বা সংশোধিত সমীক্ষা আবার শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকার মূলতঃ আগের সমীক্ষাটিকেই আপগ্রেড করছে। আগামী ডিসেম্বরে এই সমীক্ষা রিপোর্ট জমা দেয়া হবে। সরকারের কাছে এই রিপোর্ট ইতিবাচক মনে হলে বাংলাদেশ সরকার, এডিবি এবং বিভিন্ন বিদেশি দাতা সংস্থার যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটির কাজ ২০১৫ সালে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সমীক্ষা কাজের মধ্যে প্রকল্পটির বিশদ নক্শা এবং দরপত্রের ডক্যুমেন্ট তৈরির কাজ চলছে। প্রকল্পটির জন্য সম্ভাব্য বা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার জেলার উখিয়া পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। কাজ শুরু হলে এটি শেষ হতে সময় লাগবে চার বছর। পরে এই লাইনটি মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে রুটের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা হবে। পরে এই লাইন মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি উর্ধ্বতন সূত্র ইত্তেফাককে জানান, সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মিত হলে তার পণ্য পরিবহন, কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটক পরিবহন, আন্তর্জাতিক পণ্য ও যাত্রী পরিবহনসহ বাংলাদেশের ভিতর ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে রুটের মিসিং লিংক উদ্ধারে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।