জগন্নাথ ভার্সিটির হল উদ্ধারে মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠন
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৪, ২২:৫২
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখলকৃত হলসমূহ উদ্ধারের লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদকে আহ্বায়ক করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) কাজী সালাহ্উদ্দিন আকবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ), ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট যুগ্মসচিব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা প্রশাসক, ঢাকা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এ কমিটি ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখলকৃত হলসমূহ উদ্ধারের বিষয়াদি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ পেশ করবে।
শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে জরুরি সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাজমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) কাজী সালাউদ্দিন আকবরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণের জন্য যথাসম্ভব নিকটবর্তী স্থানে নতুন জমি ক্রয়ের লক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষকে আহ্বায়ক করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জমি ক্রয় কমিটি গঠনের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া একাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের অসমাপ্ত কাজ এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাজমান পরিস্থিতিকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না করে অবিলম্বে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
বেদখল হল উদ্ধার ও নতুন হল নির্মাণের দাবিতে এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট অফিস অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের রায়সাহেব বাজার মোড় অবরোধ কর্মসূচি শেষে এ ঘোষণা দেন হল পুনরুদ্ধার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম। ব্যাংক অবরোধ কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে বেদখল হল উদ্ধার ও নতুন হল নির্মাণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা ১২টার দিকে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী পুরনো ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড় অবরোধ করে। ঘণ্টাব্যাপী চলা অবরোধে পুরনো ঢাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে মানববন্ধন করেন শিক্ষকরা। পরে তিন শতাধিক শিক্ষক রায়সাহেব বাজার মোড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রায়সাহেব বাজার মোড়কে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধিকার আদায় চত্বর’ নামে ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন হল পুনরুদ্ধার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক। অবরোধ কর্মসূচি শেষে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসিক ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সদরঘাটে বাংলাদেশ ব্যাংক অবরোধ করবো আমরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ না নিলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এদিকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির পাশাপাশি নতুন কর্মসূচি প্রদান করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। সোমবারের কর্মসূচি শেষে শিক্ষক সমিতির সদস্য শেখ মাশরিক হাসান মেহেদী বলেন, শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌন মিছিল করবেন শিক্ষকরা। পরে শিক্ষার্থীদের সদরঘাটে বাংলাদেশ ব্যাংক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেব আমরা।