বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা দুই দলেরই বেড়েছে

পঞ্চম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা অন্য ধাপের তুলনায় বেড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো একক প্রার্থী দিতে চাইলেও প্রতিবারের মতো এবারো তারা ব্যর্থ হয়েছে। পঞ্চম ধাপে ৩৫ জেলার ৭৩ উপজেলায় ১ হাজার ৩৫৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রতি উপজেলাতে চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদে গড়ে ৭ জনেরও বেশি প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে গড়ে ৪ জনের বেশি প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর আগে চতুর্থ ধাপে গড়ে প্রায় ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন ইসির তথ্য অনুযায়ী গত রবিবার পঞ্চম ধাপের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৫৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫২৯ জন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫২০ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩০৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত। এক্ষেত্রে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আওয়ামী লীগ। উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে দলটির পরাজয়ের মূলে রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়াতে অধিকাংশ উপজেলায় সুযোগ নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে প্রার্থী মনোনয়নে ভাগাভাগির কারণে লাভবান হচ্ছে জামায়াত। গত ২০ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপের ৭৪ উপজেলার তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তবে টাঙ্গাইলের বাসাইলে সংসদ নির্বাচন থাকায় ওই উপজেলাতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এ দফার প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই বাছাই হবে আগামীকাল বুধবার। আর প্রত্যাহারের শেষ দিন ১২ মার্চ। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ১৩ মার্চ। নির্বাচন হবে আগামী ৩১ মার্চ। চতুর্থ ধাপের ৪২ জেলার ৯২ উপজেলাতে চেয়ারম্যান পদে ৫৬৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬১০ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৩৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ ধাপের নির্বাচন হবে আগামী ২৩ মার্চ। আর তৃতীয় ধাপের নির্বাচন হবে আগামী ১৫ মার্চ। পঞ্চম ধাপে যেসব নির্বাচন ঠাকুরগাঁও জেলার সদর, দিনাজপুরের বিরল, পার্বতীপুর ও হাকিমপুর; নীলফামারীর ডোমার; লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ; গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ। বগুড়ার সদর, রাজশাহীর পবা; সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও শাহজাদপুর। পাবনার সদর ও বেড়া, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও সদর, সাতক্ষীরার সদর, দেবহাটা ও তালা, বরগুনার বামনা, পাথরঘাটা, সদর ও আমতলী; পটুয়াখালির দশমিনা ও কলাপাড়া; টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল সদর ও গোপালপুর; জামালপুরের মাদারগঞ্জ; ময়মনসিংহের গফরগাঁও, ত্রিশাল ও নান্দাইল। কিশোরগঞ্জের অষ্ট্রগ্রাম ও পাকুন্দিয়া; মুন্সীগঞ্জের টংগীবাড়ী; সিরাজদিখান ও লৌহজং; গাজীপুরের কালীগঞ্জ; নরসিংদীর মনোহরদী, নরসিংদী সদর ও রায়পুরা; নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার; রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ। সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর; সিলেটের বিয়ানীবাজার; মৌলভীবাজারের জুড়ী ও রাজনগর; হবিগঞ্জের বানিয়াচং, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, আশুগঞ্জ ও সদর; কুমিল্লার মুরাদনগর ও চান্দিনা। ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া; নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও হাতিয়া; লক্ষ্মীপুরের রামগতি সদর, রামগঞ্জ ও রায়পুর; চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ; কক্সবাজারের সদর, টেকনাফ ও উখিয়া; খাগড়াছড়ির দিঘীনালা; রাঙ্গামাটির রাঙ্গামাটি সদর, লংগদু, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি।