চট্টগ্রামে জামাল উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি ১১ বছর পর গ্রেফতার

চট্টগ্রামে বিএনপি’র সাবেক নেতা ও ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন অপহরণ মামলার অন্যতম আসামি সুলতান ড্রাইভারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অপহরণের প্রায় ১১ বছর পর রবিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ পাড়ার একটি বাসা থেকে সুলতানকে গ্রেফতার করে। সুলতান নিজেকে নূরুল ইসলাম পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন কক্সবাজারে আত্মগোপন করেছিলেন বলে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) বাবুল আক্তার জানান। আটকের পর গতকাল সোমবার তাকে চট্টগ্রামে এনে আদালতে সোপর্দ করা হয়। ২০০৫ সালে কক্সবাজার গিয়ে সুলতান প্রথমে রিকশা চালাতেন। এরপর কয়েক বছর তরকারির ব্যবসা করেছেন। গত প্রায় তিন বছর যাবত্ স্থানীয় হ্যান্ডি রেষ্টুরেন্টে সাত হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। তার স্ত্রী ও সন্তান ফটিকছড়িতে অবস্থান করলেও এলাকার লোকজন জানতেন সুলতান বিদেশে অবস্থান করছেন। ২০০৩ সালে নগরীর চকবাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফেরার পথে অপহূত হন জামাল উদ্দিন। অপহরণকারীরা তার মুক্তির বিনিময়ে এক কোটি টাকা দাবি করে। এসময় পরিবারের পক্ষ থেকে জামাল উদ্দিনের মুক্তির আশায় বিভিন্ন মাধ্যমে কিছু টাকা প্রদান করা হলেও তিনি মুক্তি পাননি। এ ঘটনায় নগরীর চান্দগাঁও থানায় একটি অপহরণ মামলা হয়। ২০০৬ সালে কাশেম চেয়ারম্যানসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি। তবে কাশেম চেয়ারম্যানসহ ৯ জন তখন পলাতক ছিলেন। মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, অপহরণ করে ফটিকছড়িতে নিয়ে গেলে কাঞ্চননগরের চারা বটতলায় পাহাড়ের ঢাল হতে আসামি কালা মাহবুব, লম্বা মাহবুব, সুলতান ও টেংরা ওসমান তাকে গহীন জঙ্গলে নিয়ে যান। অপহরণের ২ বছর পর ২০০৫ সালে ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে জামাল উদ্দিনের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। মামলার অন্যতম আসামি ও ফটিকছড়ির শীর্ষ সন্ত্রাসী কালা মাহবুবের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ এ কঙ্কাল উদ্ধার করে। মাহবুব জবানবন্দিতে হত্যার ঘটনায় বিএনপি নেতা সরওয়ার জামাল নিজাম ও মারুফ নিজামের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেন। বর্তমানে মামলাটির কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত হয়ে আছে বলে জানা গেছে।