স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করতে বিল আসছে :আশরাফ
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৪, ২৩:২০
জাতীয় নির্বাচনের মতো আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলীয়ভাবে করার কথা ভাবছে সরকার। আর এ লক্ষ্যে সংশোধিত স্থানীয় সরকার আইনের খসড়া শিগগিরই সংসদে উত্থাপন হতে পারে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গতকাল সোমবার এ ইঙ্গিত দিয়েছেন। মিরপুর গোলারটেক খেলার মাঠে শাহ আলী, মিরপুর, দারুস সালাম থানা ও ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩ ও ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেউ দলীয় প্রতীক ও দলের নাম ব্যবহার করতে পারবে না কেন? কেন এই লুকোচুরি?’
সৈয়দ আশরাফ বলেন, সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পর গণমাধ্যমে বলা হয়, আওয়ামী লীগ এত পেল, বিএনপি এত পেল। কী করে বুঝব যে এরা আওয়ামী লীগ, তারা বিএনপি। তাদের কোন দলীয় প্রতীক নেই। এই অবস্থার পরিবর্তনে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনটি পরীক্ষা করতে বলেছেন উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন আইন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও পৌর, সিটি করপোরেশন এমনকি পঞ্চায়েত সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাচিত হয়। একই নির্বাচনী ব্যবস্থা ইংল্যান্ড, আমেরিকাসহ বিভিন্ন পাশ্চাত্য দেশেও বিদ্যমান। আর তাই স্থানীয় সরকারকে গতিশীল করতে আইন সংশোধন খুবই জরুরি। তিনি বলেন, শিগগিরই একটি খসড়া বিল সংসদে উত্থাপন সম্ভব হবে।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, স্থানীয় সরকারকে যারা রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থার বাইরে রাখতে চান, তারা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, আমাদের দেশে দুই ধরনের শাসন ব্যবস্থা চলছে। একটা হচ্ছে সংসদীয় শাসন, আরেকটা হচ্ছে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা। এক দেশে দুই ধরনের শাসন কেন থাকবে? পৃথিবীর কোথাও কোন গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের দ্বিমুখী আইন নেই। জাতীয় নির্বাচনে একটি দলের প্রার্থী অংশ নিতে পারলে স্থানীয় নির্বাচনে কেনো পারবে না। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারে এখন ব্যক্তির শাসন চলে। সংসদীয় পদ্ধতিতে স্থানীয় নির্বাচন করতে হবে।
দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনে এখন কী হয়? এক ব্যক্তি সব ক্ষমতার মালিক থাকেন। তার জবাব দেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বিএনপি উপজেলায় বিশ্বাস করে না। উপজেলা নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ সন্দেহজনক। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন উপজেলা আইন বাতিল করে নির্বাচিত সব চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ উপজেলা নির্বাচনে বিশ্বাস করে বলেই উপজেলা নির্বাচনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাবাবদিহিতামূলক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সেজন্য যত ধাপ আছে, তার সব ধাপকেই আমরা আরো গতিশীল করতে চাই।
যারা নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশনে তাদের হলফনামা প্রদান বাধ্যতামূলক হওয়ার সমালোচনা করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, এটা রাজনীতিবিদদের চরিত্র হননের হলফনামা। আমি নির্বাচন করবো বিধায় এক আইন (হলফনামা প্রদান বাধ্যতামূলক) অন্যদিকে আরেকজনের জন্য (যে নির্বাচন করবে না) আরেক আইন। এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না। আমরা সেই আইনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমি রাজনীতি করি বিধায় আমার ঘর-বাড়ি-সংসার থাকতে পারবে না, আমি কী গাছ তলায় বাস করবো?
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ইনকাম ট্যাক্সে তো আমাদের সবকিছু আছে। রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি করলে তারাই তো ধরতে পারে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের হলফনামা বিভিন্ন জায়গায় উপস্থাপনের মাধ্যমে কাউকে দুর্নীতিবাজ, কাউকে সম্পদ লোভী বলে উল্লে¬খ করা হয়। আমি রাজনীতি করি বিধায় আমার মান-সম্মান কী থাকবে না?
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হয়েছে। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা পেয়েছে। আমরা সংবিধানের বাইরে যাইনি। এ নির্বাচন ঠেকাতে শত শত মানুষ হত্যা করে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া।
মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আগা খান মিন্টুর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুল হক সবুজ, ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সহিদুল ইসলাম মিলন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মকবুল হোসেন প্রমুখ। কাউন্সিল উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ আজিজ।