চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
শেষ ক্লাসের আয়োজন
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০১৪, ১৯:২৮
সময়টা ২০১০ সালের ৮ মার্চ। চুয়েটে নতুন একটি ব্যাচের আগমন। সব বিভাগের মত যন্ত্রকৌশল বিভাগেও যুক্ত হয় একঝাঁক নতুন মুখ। নূতনের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠে যন্ত্রকৌশল বিভাগও। ক্লাস করা, হলে এসে বন্ধুদের সাথে তাস খেলা আর ব্যাচমেটদের মাঝে নিজের বিভাগের প্রশংসা করাই ছিল নবীনদের একমাত্র কাজ। কিন্তু এই সুখের ক্যাম্পাস জীবনটা এত দ্রুত শেষ হয়ে যাবে তা কখনই কল্পনাও করেনি তারা। দেখতে দেখতে চারটি বছর কেটে গেছে। সেই নবীন আমরা এখন চতুর্থ বর্ষের ২য় সেমিস্টার শেষ করতে যাচ্ছি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটাকে আরও স্মৃতিময় করে রাখতেই গত ২ মার্চ আমরা আয়োজন করি আমাদের সর্বশেষ ক্লাসপার্টি।
ক্লাসপার্টির দিন সকালে প্রথমেই বিভাগের সামনে বন্ধুদের মাঝে বিতরণ করা হয় টিশার্ট। মেয়েরাও পরে আসে একই রকম সেলোয়ার-কামিজ। শুরু হয় র্যালি । ম্যাকানিকাল... ম্যাকানিকাল ধ্বনিতে কম্পিত হয়ে উঠে পুরো ক্যাম্পাস। র্যালিটি গোলচত্বর দিয়ে ঘুরে যন্ত্রকৌশল বিভাগের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এবার সবাই প্রবেশ করে আমাদের সেই চিরচেনা ক্লাসরুমে। কিন্তু কি আশ্চর্য ! এই ক্লাসরুম তো সেই ক্লাসরুম নয়। রুমকে সাজানো হয়েছে নববধূর সাজে। বেলুন দিয়ে সাজানো হয়েছে গেট। দেয়ালে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন পেপার আর্ট। কর্ক পেপার দিয়ে তৈরি শিক্ষকবৃক্ষ নামক চিত্র যা সকলকে মুগ্ধ করে। বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড: আব্দুল ওয়াজেদ, ডীন প্রফেসর ড: বদিউস সালাম স্যার কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। শিক্ষকদের নিয়ে করা হয় একটি গেম-শো। দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় ছাত্র শিক্ষক প্রীতিভোজ। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বটি ছিল শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে। এ পর্বে ছাত্র-ছাত্রীদের করা চারটি শর্ট-ফিল্ম দেখানো হয়। এ পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশটি ছিল শায়লা ও মাসুদ রানার কাছে আসার গল্প নিয়ে ডকুমেন্টারিটি। অনুষ্ঠানের মধ্যে আরও ছিল লটারি, সু্ই সুতা গাঁথা, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদি। ফরহাদের গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। ভালবাসা জড়ানো এই ক্লাসপার্টি যন্ত্রকৌশল বিভাগের নবম ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীর হূদয়ে লেখা থাকবে পরম মমতায়।