আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে নদীতীর ইজারা
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০১৪, ২১:২৮
ঢাকার চারপাশের নদী রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। বিভিন্ন নদীবন্দরের আওতাধীন নদীসমূহের তীরভূমি রক্ষার দায়িত্ব মূলত বিআইডব্লিউটিএর। অথচ বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ নদের তীর ইজারা দিয়ে তারা এখন দৃশ্যত ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও নদী বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে নদী তীর ইজারা দিয়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করছেন রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অবিলম্বে এসব নদী তীরের ইজারা বাতিল, সকল অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং ইজারা প্রদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।
মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে অবস্থিত মুক্তি ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রাজনীতিবিদ, পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা এসব কথা বলেন।
নৌ, সড়ক ও রেলখাত রক্ষা জাতীয় কমিটি ‘রক্ষক যদি ভক্ষক হয় নদী রক্ষা করবে কে?’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। সংগঠনের আহ্বায়ক আশীষ কুমার দের সঞ্চালনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম সবুজ।
বক্তারা বলেন, এ অসত্ কর্মকর্তাদের শাস্তি না হলে এই অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা চলতেই থাকবে।
লিখিত বক্তব্যে ঢাকা নদীবন্দরের বুড়িগঙ্গা ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের শীতলক্ষ্যা নদী তীরের বিশাল আয়তনের জমি অবৈধভাবে ইজারা দেয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- রাজধানীর লালকুঠি এলাকায় বাকল্যান্ড বাঁধের ভেতরে ট্রানজিট শেডের নামে ১১ জনকে ৪০০ বর্গফুট করে খোলা জায়গা, গাবতলী এলাকায় প্রতিটি ৪, ৫ ও ৭ শতাংশের প্লট তৈরি করে ৬৮ জনের নামে বরাদ্দ, আমিন বাজার ল্যান্ডিং স্টেশনের দক্ষিণে আট ব্যক্তির নামে প্রায় পাঁচ একর ও সোয়ারীঘাট এলাকায় ৬৭ শতাংশ জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বন্দোবস্ত দেয়া হয়।
এছাড়া বছিলা এলাকায় দুটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকে নদী তীরের বিশাল আয়তনের জমি ইজারা প্রদানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের অধীনে মদনগঞ্জ মৌজায় ১৯০১ থেকে ১৯০৫ নম্বর দাগের ২৩ একর (২২ দশমিক ৯৯ একর) জমি একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়া হয়েছে। এভাবে নদীতীরের ভূমি ইজারা দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ হাইকোর্টের নির্দেশনা ও নদী বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছে।
আলোচনায় অংশ নেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, সিটিজেনস রাইটস মুভমেন্টের মহাসচিব তুষার রেহমান, নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিনুর রসুল বাবুল, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, সম্মিলিত জলাধার রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রুবেল, পিস এর নির্বাহী পরিচালক ইফমা হুসেইন, সিপিবি নেতা সেকেন্দার হায়াত প্রমুখ।