বাংলাদেশে শিক্ষায় সবস্তরেই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০১৪, ২১:২৮
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, যোগ্যতাসম্পন্ন খুব কম লোকই শিক্ষকতা পেশায় আসতে চান। ফলে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক পাওয়া যায় না। যারা আছেন তাদের অনেকেই আন্তরিকতার সঙ্গে পড়ান না। কিন্তু একই শিক্ষক কোচিং সেন্টারে গিয়ে ক্লাসের চেয়ে ভালোভাবে পড়ান। আমি খুবই হতাশ। শিক্ষকরা আন্তরিক না হলে এ ব্যবস্থার পরিবর্তন করা যাবে না। তবে ভবিষ্যতে অবশ্যই পরিবর্তন হবে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বব্যাংকের একটি রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে রিপোর্টটি প্রকাশ করে। অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের মূল প্রতিবেদন তুলে ধরেন গণসাক্ষরতা অভিযানের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ। প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে উপস্থিত অনেকে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রধান নির্বাহী রাশেদা কে চৌধুরী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক জেসকু হেনসেল, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের শিক্ষা বিভাগের পরিচালক অমিত দার।
দেশের উন্নতির জন্য বিশ্বমানের শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও নিরক্ষরতামুক্ত দেশ গড়াই শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য। আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে বিশ্বমানের শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে না পারলে দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। আমাদের অনেক সমস্যা আছে, আমাদের শিক্ষার মান খুব ভালো নয়। তবে এ কথা সবার স্বীকার করতেই হবে যে, দিন দিন আমাদের শিক্ষার মান বাড়ছে। কোনো দিক থেকেই শিক্ষার মান কমছে না। ‘দি এডুকেশন সেক্টর রিভিউ (ইএসআর) রিপোর্টে’ বাংলাদেশে শিক্ষায় অভিগম্যতা ও সমতা, বাংলাদেশের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ও বাংলাদেশের শিক্ষার গুণগত মানের বিষয়টি স্থান পেয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত একদশকে বাংলাদেশে শিক্ষার অনেকগুলো এলাকায় বেশ ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে। অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে দেশ যখন সামনে এগিয়েছে তখন তার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ছিল টেকসই। শিক্ষায় বিনিয়োগও ছিল লাগাতার। এজন্য শিক্ষায় প্রায় সব স্তরেই অভিগম্যতা ও সমতা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এরফলে প্রাথমিক স্কুলে মোট ভর্তির হার ৯১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০১ শতাংশ হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তির হার ৫১ থেকে ৬২ শতাংশ, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তির হার ৩৩ শতাংশ থেকে ৪৪ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির হার সাত থেকে বেড়ে ১০ শতাংশ হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমতা অর্জন করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্কুলে এখন ছেলের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। মেয়েদের ভর্তির হার ৪৪ থেকে বেড়ে ৫৫ এবং ছেলেদের ভর্তির হার ৩২ থেকে বেড়ে ৪৫ শতাংশ হয়েছে। এছাড়া আগের চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী এখন স্কুলে টিকে থাকছে, যা গত ৩০ বছরে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করা মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। তবে ছাত্রীরা দৃঢ় পায়ে উচ্চ শিক্ষায় প্রবেশ করছে বটে, তবু আজ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তারা মাত্র ২৬ শতাংশ।