সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, প্রতিমা ভাংচুর

ঝালকাঠির রাজাপুরের শুক্তাগড় গ্রামে মন্টু বিশ্বাস নামের এক সংখ্যালঘুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় হামলাকারীরা তার বসতঘর ভাংচুর করে ও একটি পরিত্যক্ত গোয়ালঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় ওই পরিবারের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। এদিকে একই সময় নোয়াখালির বেগমগঞ্জের কুতুবপুরে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের সাবেক মেম্বারের ছেলেরা এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা করেছে। এতে তিন মহিলাসহ চার জন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগী মন্টু বিশ্বাসের বরাত দিয়ে রাজাপুর (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সকালে একই এলাকার সিদ্দিক মিয়া ৭-৮জন লোক নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে কালি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করে। এসময় তারা ভয়ে বসতঘরে আশ্রয় নিলে বসতঘরেও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাংচুর করে। হামলাকারীদের ছোঁড়া ইটে মঞ্জু রানী, সাগর বিশ্বাস, নয়ন বিশ্বাস, পুষ্পরানী বিশ্বাস ও উত্তম বিশ্বাস আহত হয়েছেন। আহত মঞ্জু ও সাগরকে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত সিদ্দিক মিয়া বলেছেন, ‘আমরা তাদের বাড়ির ভিতরে ইট নিক্ষেপ করেছি এটি সত্য। তবে প্রতিমা ভাংচুর ও অগ্নিকাণ্ডের কোন ঘটনা ঘটেনি।’ রাজাপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিমা ভাংচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত সিদ্দিক মিয়া ও তার ভাগ্নে লিমনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের বরাত দিয়ে চৌমুহনী (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, সকালে বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের কবিরাজ বাড়ির মৃত চিত্তরঞ্জন দেবনাথের বসতঘরের পাশেই একই এলাকার সাবেক এক মেম্বার তার ছেলেদের নিয়ে মাটি কাটছিলেন। এ সময় চিত্তরঞ্জনের স্ত্রী ঊষা রানী (৭০) তাদের মাটি কাটতে নিষেধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা ঊষা রানীকে লাঠি দিয়ে পিটাতে থাকেন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা পুত্রবধূ জয়ন্তী, মনিরানী ও ছেলে লিটনকেও বেদম প্রহার করেন তারা। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।